আলোক সেন, বাঁকুড়া: দেশের বড় রাজ্যগুলি থেকে একে একে বিদায় হয়ে যাচ্ছে বিজেপি। বাংলা থেকেও একুশে ফিনিশ হয়ে যাবে তারা। মঙ্গলবার বাঁকুড়া শহর লাগোয়া সতীঘাটে বুথ কর্মীদের সম্মেলনে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন সম্মেলনে বিশাল মানুষের জমায়েত হয়েছিল। জেলা নেতারা আশা করেছিলেন, ৫৫–৬০ হাজার মানুষ আসবেন। সেই মতোই বানানো হয়েছিল বিশাল মণ্ডপ। কিন্তু দেখা গেল, তাঁদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গেছে। মণ্ডপের বাইরেও বহু মানুষ দাঁড়িয়ে থাকেন।
মুখ্যমন্ত্রী লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে ‌সিপিএম তাদের ভোট বিজেপি–‌কে দিয়ে দিয়েছে। তারা ভেবেছিল, পরে বিজেপি হয়তো সাহায্য করবে। সিপিএমের মুখোশ খুলে গেছে। একদিন যে হার্মাদরা সিপিএমের ছত্রছায়ায় গোটা জেলা জুড়ে সন্ত্রাস কায়েম করেছিল, এখন তারাই বিজেপি–‌তে রূপান্তরিত হয়েছে।’‌ তিনি সিপিএম, কংগ্রেস এবং বিজেপি–‌কে জগাই, মাধাই এবং গদাই উল্লেখ করে বলেন, ‘‌সকালবেলা সিপিএম জগাই, দুপুরে কংগ্রেস মাধাই এবং রাতে বিজেপি গদাই। তিন ভাই মিলে যতই ষড়যন্ত্র করুক, তৃণমূলের ভিত নড়াতে পারবে না। বরং তৃণমূল উত্তরোত্তর শক্তিশালী হবে। লোকসভা নির্বাচনে এত টাকা দিয়ে সিপিএম–‌কে কেনা হয়েছে যে, তাদের সাইন বোর্ডটাই উঠে গেছে। আমরা এটা ভাবতে পারিনি।’‌ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘‌বিজেপি–‌কে ভোট দিয়ে আপনারা কী পেলেন?‌ পেয়েছেন এনআরসি, এনপিআর আর ক্যা। এবার আপনাদের বাবার জন্মের ঠিকানা দিতে হবে। নতুবা আপনাদের এখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আপনাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে।’‌
কর্মীদের উদ্দেশে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘‌আপনারা সক্রিয় হোন। আমরা এ রাজ্যে এনআরসি, এনপিআর কিংবা ক্যা করতে দেব না। এত বছর বসবাসের পর এখন নাগরিক কিনা তার কৈফিয়ত দিতে হবে?‌ এসব আমরা মানব না। তাই বিজেপি–কে দেশ থেকে হঠাতে হবে। কর্মীদের এলাকায় এলাকায় নজর রাখতে হবে, অপরিচিত কোনও মানুষ এলাকায় ঢুকে পড়ছে কিনা। কেন না বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে এ রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ব জাগানোর চেষ্টা করছে। এরা এমনকী সন্ন্যাসীর বেশেও আসতে পারে। প্রতিশ্রুতি দিতে পারে অর্থ সাহায্যের। এমন ঘটনা ইতিমধ্যে মালদায় ঘটেছে। আমরা হাতেনাতে তাকে ধরেছি এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তেমন কোনও ঘটনা নজরে এলে দলের কর্মীদের জানাবেন, পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদের জানাবেন, এমনকী প্রয়োজন হলে আমাকেও জানাতে পারেন।’‌ তিনি বলেন, ‘‌পুরনো দিনের যে কর্মীরা দলের হয়ে লড়াই করেছেন, তাঁদের নেতৃত্বে সংগঠন শক্তিশালী হবে, নতুন যাঁরা দলে এসেছেন, তাঁরাও যোগ্য মর্যাদা পাবেন। সেই সব বুথ কর্মীকে বেশি ভালবাসি, যাঁরা সাইকেলে চড়ে মানুষের দরজায় দরজায় যান, মানুষের সুখে–দুঃখে পাশে থাকেন। কিন্তু যাঁরা শুধু নিজেদের ছাড়া অন্যের কথা ভাবেন না, তাঁদের পছন্দ করি না।’‌ রাজ্য বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ‌গরিব ও সাধারণ মানুষের জন্য আরও নতুন কয়েকটি প্রকল্প চালু করেছি। আদিবাসী, তফসিলি থেকে বেকার যুবক–যুবতী সকলের জন্য নানা সুযোগ–সুবিধা রাখা হয়েছে এই বাজেটে। বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে আরও বেশি বেশি করে সুযোগ–সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। তৃণমূল সরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য নানা প্রকল্প চালু করেছে। সারা দেশে যেখানে বেকারি বেড়েছে ৩২ শতাংশ, সেখানে এই রাজ্যে বেকারি কমেছে ৪০ শতাংশ। রাজ্যের ৯২ শতাংশ মানুষ কোনও না কোনও সরকারি পরিষেবা পাচ্ছেন।
মঞ্চে মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি, শুভেন্দু অধিকারী, ইন্দ্রনীল সেন, জেলা সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কর্মিসম্মেলন শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী যান বাঁকুড়া সার্কিট হাউসে। সেখানে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বুধবার বাঁকুড়া রবীন্দ্র ভবনে তিনি প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে তিনি যাবেন দুর্গাপুর। সেখানেও তাঁর নানান কর্মসূচি আছে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top