আলোক সেন, বাঁকুড়া: ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি খানখান!‌ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া বাহিনী।
আর এই ইস্যুতেই বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে আবার সোচ্চার হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজ এখানে লেনিনের মূর্তি ভাঙায় তীব্র নিন্দা করে মমতা বলেছেন, ‘‌আমরাও একদিন সিপিএমকে সরিয়ে এ রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিলাম। এসেই ঘোষণা করেছিলাম, বদলা নয়, বদল চাই। এ রাজ্যে কোনও হিংসা হতে দিইনি। গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই।’‌ তাঁর কথায়, ‘‌ত্রিপুরা ছোট্ট একটা রাজ্য। আমাদের হাওড়ার থেকেও ছোট। সেখানে টাকা ছড়িয়ে, ক্ষমতা প্রদর্শন করে, জোরজবরদস্তি চালিয়ে কোনওক্রমে জিতেছে ওরা। কিন্তু তার জেরেই গত তিনদিন ধরে কী না হচ্ছে ত্রিপুরায়!‌’‌ মোদির নাম না–‌করে তাঁর উদ্দেশে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‌আপনি ক্ষমতায় এসেছেন বলে মনীষীদের মূর্তি ভাঙবেন। লেনিনের, কখনও কার্ল মার্কস, কখনও নেতাজির মূর্তি ভাঙবেন। এটা আমরা মেনে নেব না। লেনিন, কার্ল মার্কস আমার নেতা নন। কিন্তু তাঁদের মূর্তি ভাঙা সমর্থন করি না।’‌ এদিন পাত্রসায়রে এক প্রশাসনিক সভায় সরকারি পরিষেবা প্রদানের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। সেখানে তিনি আরও বলেন, ‘‌এটা সরকারি সভা, তাই বলতে চাইছিলাম না। কিন্তু না বলা ছাড়া উপায়ও নেই।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ত্রিপুরা বাঁকুড়া জেলার মতোও নয়, এমন–‌কি হাওড়ার থেকেও তার জনসংখ্যা কম। হাওড়ায় যেখানে জনসংখ্যা ৩৮ লক্ষ, সেখানে ত্রিপুরার জনসংখ্যা মাত্র ২৫ লক্ষ। সেখানে টাকা ছড়িয়ে, পেশি শক্তি প্রদর্শন করে ভোটে জিতে গত তিনদিন ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে বিজেপি। এ ব্যাপারে মমতা এদিন আরও বলেছেন, ‘‌রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীজি, নেতাজি, নজরুল, স্বামী বিবেকানন্দ, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ— এঁরা স্মরণীয় মানুষ। তেমনই নিজেদের দেশে স্মরণীয় মানুষ লেনিন, কার্ল মার্কসও। তাই কোনও মনীষীর মূর্তি ভাঙা আমরা সমর্থন করি না। তিনদিন ধরে সেখানে তাণ্ডব চললেও কেউ কোনও প্রতিবাদ করছে না। আমি প্রতিবাদ করেছি, প্রতিবাদ করব। এর আগে সিপিএমের অত্যাচার সমর্থন করিনি, বিজেপি–‌র অত্যাচারও সমর্থন করব না।’‌ মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস, ‘দেশের মানুষ সব দেখছেন। তাঁরা একদিন এই বিজেপি–‌র অহঙ্কার ভেঙে চুরমার করে মাটিতে মিশিয়ে দেবেন। তাই বিজেপি সরকারকে বলি, ক্ষমতায় এসেছেন, গড়তে পারলে গড়ুন, নইলে মানে মানে কেটে পড়ুন। সামনের নির্বাচনেই দেশের মানুষ আপনাদের যোগ্য শিক্ষা দেবেন।’‌‌‌এদিকে,
ত্রিপুরায় লেনিনের মূর্তি ভাঙায় সরব হলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি ও ফিরহাদ হাকিম এবং সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। পার্থ এদিন বলেন, এরা কারা। এরা কী করতে চাইছে ত্রিপুরায়। হিংসাত্মক রাজনীতি শুরু করেছে। লেনিনের আদর্শ যাঁরা বিশ্বাস করে, তাঁদেরও ত্রিপুরার বিজেপি সরিয়ে দিতে চাইছে। এ সব করে কোনও লাভ হয় না। বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিম বলেন, ত্রিপুরায় যারা এসেছে, তারা আক্রমণাত্মক ও উগ্রপন্থী দল। ওখানে যে কোনও সময়ে দাঙ্গা হতে পারে। যারা ভাঙচুর করে, তারা মানুষের পক্ষে কাজ করতে পারে না। ২০১১ সালে পরিবর্তন এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাংলায় কিন্তু এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। লেনিন, মার্কসের মূর্তি আজও অক্ষত আছে। বামপন্থীরা স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করতে পারছেন। তাঁদের দপ্তর আছে। কোথাও কোনও ঘটনা ঘটেনি। পরিবর্তনের পর বাংলার মানুষ রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনছেন। তৃণমূল কাউকে খুন করতে যায়নি। মমতা ব্যানার্জি গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। তিনি বলেন, ওদের নেতারাই তো বলেন, শ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যাবে। ত্রিপুরার মানুষ এখন টের পাবে কাদের ওরা নিয়ে এসেছে। সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি দিল্লিতে এই প্রসঙ্গে বলেছেন, চিরকাল বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে না। যেদিন ক্ষমতা থেকে চলে যাবে, সেদিন যদি কোনও দলের কর্মীরা দীনদয়ালের মূর্তি ভাঙে, তখন বিজেপি–‌র কেমন লাগবে?‌ তিনি বলেন, এটা কোনও সুস্থ রাজনীতির পরিচয় নয়। আসলে বিজেপি কোনও সংস্কৃতিই জানে না। এভাবে মূর্তি ভাঙার উদ্দেশ্য কী?‌ ২০১১–‌য় ক্ষমতায় আসার পর সিপিএমের কোনও বাড়ি ভাঙা হয়নি। বিজেপি দাঙ্গাবাজের দল।  

জনপ্রিয়

Back To Top