অমিতাভ সিরাজ, শিলিগুড়ি, ৫ ফেব্রুয়ারি- আগামী বছর লোকসভা— আর পঞ্চায়েত ভোট এ বছর তিন মাস পরেই।
তাই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে দলের গুরুত্ব বাড়ছে তা আরও স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বাংলার সার্বিক উন্নতিকে হাতিয়ার করে অন্য রাজ্যগুলিকেও একসূত্রে বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সোমবার এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি–‌র বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে শামিল হতে ছাত্র–যুবদের উদ্বুদ্ধ করার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ি এসে। আজ মমতা বলেছেন, ‘২০১৯ সালে বাংলাই ভারতবর্ষকে পথ দেখাবে। আগামী দিনে সময় আসছে, তৃণমূল একটি বড় ভূমিকা পালন করবে। দেশের নতুন শিখা জ্বালাতে আমাদের শপথ নিতেই হবে।’ এদিন উত্তরবঙ্গ ছাত্র–যুব কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস ও ছাত্র পরিষদের ডাকে ওই সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ভাষণ দেন যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি–সহ সুব্রত বক্সি, অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, সৌরভ চক্রবর্তী, শান্তা ছেত্রি, জেমস কুজুর, দলের ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী জয়া দত্ত। এছাড়াও ছিলেন উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, জেলা সভাধিপতি, বিধায়ক ও সাংসদরা। ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন থেকে বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, বাচ্চু হাঁসদা, গোলাম রব্বানি প্রমুখ। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি তাঁর ভাষণের শুরুতেই উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ পাড়েন। তাঁর কথায়, ‘এই জেলা একদিন খুবই অবহেলিত ছিল, আজকে সব পাল্টে গিয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের উন্নতিতে তৃণমূল সরকার কোনও কার্পণ্য করেনি।’ এরপরই কেন্দ্রে মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি সিপিএম, কংগ্রেস ও বিজেপি–কে তুলোধনা করেন। মমতা বলেন, ‘কংগ্রেস–সিপিএমের পাপড়ি দিয়ে বিজেপি তৈরি হয়েছে। ওদের প্রচুর টাকা। অনেক মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশেই অসম। ওখানে বসেই কোচবিহারে দাঙ্গা বাধাচ্ছে। বালুরঘাট, মালদায় বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু–মুসলিম বিভাজন সৃষ্টি করে গন্ডগোলের চেষ্টা করছে।’ তাঁর মতে, তৃণমূলকে এগিয়ে নিয়ে যাবে ছাত্র–যুবরাই। তাঁদের উদ্বুদ্ধ করে  মমতা বলেছেন, ‘চাবুকের মতো লড়াই করুন। কোনও আপস নয়, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখবেন অনেক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এই পার্টি তৈরি হয়েছে। তৃণমূল একটি যৌথ পরিবার। তৃণমূল যৌথ নেতৃত্বে চলে। আপনারা ভাবেন দিদি একাই সব করছে, তা নয়। তৃণমূল সবাইকে নিয়ে চলে। দিদি যেমন করে, তেমনই ব্লক থেকে জেলা, রাজ্য সভাপতিও চালায়। সবার সহযোগিতায় দল চলে।’ একথা বলতে গিয়ে সুব্রত বক্সি, পার্থ চ্যাটার্জি, ফিরহাদ হাকিম থেকে তাঁর দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বহু নেতা–মন্ত্রীর নামও  উল্লেখ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল অনেক দূর যাবে। মানুষের কথা বলবে। বিজেপি–‌র জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে একমাত্র তৃণমূলই।’
কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের মানুষ কতটা বঞ্চিত হচ্ছেন বিভিন্ন প্রকল্পে, তা–‌ও ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু বাংলা নয়, এই প্রসঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর কথাও পাড়েন। মমতা বলেন, ‘বাজেটে অন্ধ্রপ্রদেশ বলছে আমরা বঞ্চিত। এনডিএ–কে সমর্থন করবেন কিনা ভাবছেন চন্দ্রবাবু। আমাদের পুরো সমর্থন অন্ধ্রপ্রদেশের পক্ষে আছে। যে কোনও রাজ্যের বঞ্চনার ক্ষেত্রে আমরা পাশে আছি। তবে বাংলাকে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা মাথা নোয়াব না।’ কেন্দ্রীয় বাজেটেরও এদিন তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূলনেত্রী। বলেছেন, ‘তৃণমূল এমন একটা দল, যার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অন্য কারও নেই। তাই যতই গন্ডগোল, ব্ল্যাকমেলিং করুক, কেন্দ্রের এই চক্রান্তের কাছে মাথা নিচু করব না।’ মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের আগে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জিও বিজেপি–‌কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। অভিষেক প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বিজেপি–‌র অচ্ছে দিন কোথায় গেল? এক পয়সাও গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। কর্মসংস্থান হয়নি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আমাদের রাজ্যে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে দার্জিলিং সমস্যা সবই সমাধান করেছেন। বাংলাকে ভাগ হতে দেব না, একথা বলার মতো সাহস আর কারও আগে হয়নি। তাই বিভাজনের রাজনীতি করে, সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়িয়ে বাংলার সুনাম নষ্ট করতে দেব না। নোটবন্দি থেকে জিএসটি, এফআরডিআই ইত্যাদি কেন্দ্রীয় জনবিরোধী নীতিরও তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিষেক। সভার শুরুতে বলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ সুব্রত বক্সি। 

শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে। ছবি: কৌশিক চক্রবর্তী

জনপ্রিয়

Back To Top