আজকালের প্রতিবেদন: দাম বেড়েই চলেছে পেট্রল ও ডিজেলের। গত সাড়ে তিন বছরের নিরিখে এবার রীতিমতো রেকর্ড। রবিবার কলকাতায় পেট্রলের দাম পৌঁছে যায় লিটার পিছু ৭৬ টাকা ৪৪ পয়সায়। ডিজেলের লিটার প্রতি ৬৭ টাকা ২৭ পয়সা। দিল্লিতে পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় লিটার প্রতি ৭৩ টাকা‌ ৭৩ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৬৪ টাকা ৫৮ পয়সা। গতকালের চেয়ে এক ধাক্কায় পেট্রল–ডিজেলের দাম ১৮ পয়সা করে বেড়েছে। লাগামছাড়া এই দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি ট্যুইট করেন, ‌‘‌ডিজেল–পেট্রলের দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। সাধারণ মানুষ ভুগছে তো ভুগছেই। রান্নাঘর জ্বলছে। কেন্দ্র শুধু বকছে।’‌
আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেট্রল–ডিজেলের দাম ওঠানামা করে। আগেই দাম নির্ধারণের বিষয়টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর হাতে। ১৫ দিন পর পর বাজার পর্যালোচনা করে দাম ঠিক করছিল তেল কোম্পানিগুলো। কিন্তু এখন দৈনিক ভিত্তিতে দাম ওঠানামা করে। এতে প্রতিদিন অল্প অল্প করে দাম বাড়লেও চট করে তা নজরে আসে না, এটা সরকারের পক্ষে সুবিধার দিক। তবু হালে কিছু শোরগোল হয়েছে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। এই অবস্থায় তেল মন্ত্রক পেট্রল–ডিজেলের অন্তঃশুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমার সময়ে ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের জানু্য়ারির মধ্যে ৯ বার জ্বালানির অন্তঃশুল্ক বাড়িয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।‌ এখন দাম বাড়ার সময়ে তা ফিরিয়ে নিতে নারাজ অর্থ মন্ত্রক। প্রশ্ন উঠছে মোদি সরকারের এই দু’‌মুখো নীতি নিয়েই। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার বোঝাটা দেশের ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে, কিন্তু দাম কমার সুবিধে ক্রেতার পুরোপুরি দেওয়া হয়নি কেন?‌ ওই সুসময়ের চাপানো করের বোঝা এখন খারাপ সময়ে কেন ফিরিয়ে নেওয়া হবে না?‌ জেটলির মন্ত্রক রাজ্যগুলির ঘাড়েই করহ্রাসের দায়টা চাপাতে চাইছে। 
এর আগে ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছিল লিটার প্রতি ৭৬ টাকা ০৬ পয়সা। এদিকে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ডিজেলের দাম বেড়ে হয়েছিল লিটার প্রতি ৬৪ টাকা ২২ পয়সা। আজকের দর সেইসব ছাপিয়ে গেছে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top