অভিজিৎ বসাক, অমিতকুমার ঘোষ, কৃষ্ণনগর, ১২ ফেব্রুয়ারি- ‘যে কোনও কারণে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে, রাস্তায় বসে যাচ্ছে। কোনও একটা ঘটনা ঘটলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দিনের পর দিন সৌজন্য দেখানো মানে দুর্বলতা নয়। পুলিস–প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। ব্যবস্থা নেওয়া মানে গুলি চালানো নয়।’‌ সোমবার নদীয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক করার সময় এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নাম না করে বলেছেন, ‘‌এই সরকার যতদিন থাকবে মানুষের কোনও অধিকার থাকবে না। সব একতরফা হয়ে যাচ্ছে। সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে জোরালো প্রতিবাদ করতে হবে।’‌ এমনকি একসময়ে তিনি বলেন, ‘‌‌ব্যাঙ্ক আরএসএসের জায়গা নয়।’
এদিন বৈঠকে জেলার বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, নোটবাতিল, জিএসটি–সহ বিভিন্ন কারণে ব্যবসা মার খেয়েছে। এফআরডিআই বিল সমস্যা আরও বাড়াবে। খুচরো নিয়ে তীব্র সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তাঁদের বলেন, ‘‌নিজেরা জোট বাঁধুন। তৈরি হোন।‌ ‌একতরফা সব হয়ে যাচ্ছে। মানুষের কোনও অধিকার থাকবে না। সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে জোরালো প্রতিবাদ করতে হবে। এই সরকারকে যতদিন রেখে দেবেন, এমনটাই হবে।’‌‌ খুচরোর সমস্যার কথা শুনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‌আপনারা ব্যাঙ্কে স্মারকলিপি জমা দিন।  ব্যাঙ্ক তো আরএসএসের জায়গা নয়। এটাই তো ওদের চালাকি।’‌ 
কৃষ্ণনগর সার্কিট হাউসের এই বৈঠকে জেলার বিভিন্ন কাজের খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনও প্রকল্পে খামতি থাকলে অবিলম্বে তা দূর করার নির্দেশ দেন। দপ্তর ধরে ধরে কাজের খতিয়ান চান। নির্দেশ দেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া রুখতে ‌‌ক্লাব, পুজো কমিটি ও‌‌ স্কুলগুলিকে যুক্ত করতে হবে। তাদের নিয়ে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিধায়ক মহুয়া মৈত্র রেশনের চাল নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, চালের মান খারাপ হওয়ায় এক সভায় সেই চাল তাঁকে ছুঁড়ে মারা হয়েছে। বিষয়টি জেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‌টাকা দিয়ে কিনছি, পচা জিনিস কেন কিনব?’‌‌ এই বিষয়ে যে আধিকারিক যুক্ত, তাঁর কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, কেন এমন হল?‌ কে খারাপ চাল দিচ্ছে?‌ প্রশাসনিক সভায় নদীয়ার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে আরও কড়া হতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুনের ঘটনা ঘটছে কেন, সে কথা জানতে চান। দুষ্কৃতীরা কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এখানে এসে খুন করে চলে যাচ্ছে?‌ অবিলম্বে এ সব বন্ধ করতে হবে। এর সঙ্গে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কোন জায়গায় সেতুর অবস্থা খারাপ, নয়ানজুলি রয়েছে, আলো, ক্রাশ বেরিয়ার দরকার, তা দেখতে হবে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নজরমিনার বসানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে দ্রুতগতিসম্পন্ন গাড়ির ওপর নজর রাখা সহজতর হবে। ‘‌সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’‌ কর্মসূচি সফল করতে ক্লাব ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে আরও বেশি কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, ‘‌স্টিয়ারিং হাতে নেব আর কাউকে মেরে ফেলব, এটা হতে পারে না।’‌ মুখ্যমন্ত্রী এদিন আবার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রশাসন কড়া ভূমিকা পালন করবে। সরকার পোষিত নয়, এরকম স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁর পরামর্শ, একবেলা বাংলায়, অন্যবেলা ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করালে আয় বাড়াতে সুবিধে হতে পারে। তিনি জানান, চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে জেলার ৯৬ শতাংশ মানুষ পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল পাবেন। এখন পাচ্ছেন ৯২ শতাংশের বেশি মানুষ। হোমস্টে–র মতো হস্তশিল্পীদের সাহায্য করতে ‘‌হোম এমএসএনই’র ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরামর্শ দেন। তিনি জানান, এই প্রকল্পে সরকার হাত মেশিন দিতে পারে। পাশপাশি হস্তশিল্পীরা যাতে নিজেদের শিল্পকর্ম আরও সহজে রপ্তানি করতে পারেন, সে ব্যাপারে সাহায্য করবে সরকার।‌

প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী। কৃষ্ণনগরে। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top