আজকালের প্রতিবেদন: বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘‌নরেন্দ্র মোদি ও রাহুল গান্ধী একই পথে চলছেন। দুজনেই তৃণমূলকে আক্রমণ করছেন। ওঁদের জবাব মানুষ দেবে।’‌ প্রিয়াঙ্কা সম্পর্কে মমতা বলেন, ‘‌রাজীব গান্ধীর মেয়ে। তাই ওকে আমি স্নেহ করি। এর বেশি কিছু বলছি না।’‌ 
সাক্ষাৎকারে পরবর্তীকালে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী তার জবাবে মমতা বলেন, ‘‌আঞ্চলিক দলগুলি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। নির্বাচনের পর আলোচনা করেই প্রধানমন্ত্রী ঠিক করা হবে। ইউনাইটেড ফ্রন্ট যথেষ্ট শক্তিশালী। নির্বাচনে বিজেপি হারবে। ইউনাইটেড ফ্রন্ট নতুন সরকার তৈরি করবে।’‌ পাশাপাশি তিনি এও জানিয়ে দেন, বাংলায় বিজেপি শূন্য পাবে। মোদির সমালোচনা করে মমতা বলেন, ‘তিনি নিজেকে মহান নেতা ভাবেন। নিজেই নিজের প্রচার করেন। আমরা তো জানি, লোকে যাঁরে বড় বলে সেই বড় নেতা হয়।’‌ নোটবন্দি প্রসঙ্গে মমতার বক্তব্য, ‘‌নোট–বাতিল নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত। বিজেপির আমলে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ২ কোটি মানুষ বেকার হয়েছেন।  ভারতের অর্থনীতি নিয়ে কোনও পর্যালোচনা হয়নি।’‌ রাজ্যের সাফল্য তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘‌বাংলায় কৃষকদের আয় বেড়েছে। সমস্ত ক্ষেত্রে বাংলা এখন ভারতে এক নম্বর স্থানে রয়েছে। গুজরাট 
নিয়ে মিথ্যে প্রচার করা হচ্ছে। নোটবন্দির ফলে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা আসেনি। এটা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই নয়। ৫ বছরে মোদি সরকার ব্যর্থ।’‌ 
নির্বাচনী প্রচার সম্পর্কে মমতার বক্তব্য, ‘‌প্রচার ক্রমশই নিম্নমানের হচ্ছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নানারকমের উল্টোপাল্টা কথা বলছেন। আমরা কখনওই নিম্নমানের প্রচার করি না। যাঁরা এই ধরনের প্রচার করেন, তাঁদের সংযত হওয়া উচিত। পুলওয়ামায় জঙ্গি–হামলা সম্পর্কে মতার বক্তব্য, ‘‌এই ধরনের ঘটনা আগাম সতর্কতার বার্তা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না?‌ কেন জওয়ানদের শহিদ হতে হল?‌ প্রচার করা হচ্ছে, মোদি সেনা। আমরা সকলেই জওয়ানদের শ্রদ্ধা করি। তাঁরা আমাদের দেশের সম্পদ। জওয়ানরা সকলের।’ কংগ্রেস–বিজেপি– সিপিএমকে দায়ী করে মমতা বলেন, ‘‌এরা এখন একসঙ্গে কাজ করছে। ‌সিপিএমের একাংশ বিজেপিকে সমর্থন করছে। কংগ্রেসের দুই প্রার্থী আরএসএস, বিজেপির সাহায্য নিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা করছে। বাংলায় বিজেপি কোনওদিনই ক্ষমতায় আসবে না।’‌
চিটফান্ড নিয়ে বিজেপি মিথ্যে প্রচার করছে বলে সাক্ষাৎকারে মমতা জানান। তিনি বলেন, ‘‌১৯৮০ সাল থেকে এই চিটফান্ড শুরু হয়। আমাদের সময় মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনেক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। আমাদের সময় কোনও ঘটনা ঘটেনি। সব মিথ্যে রটানো হচ্ছে।’‌ অভিষেক ব্যানার্জি সম্পর্কে মমতা বলেন, ‘‌আমাকে যে সময় সিপিএম মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল, সেইসময় আমি চিকিৎসার জন্য নার্সিংহোমে ভর্তি হই। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল আমার। সেইসময় অভিষেকের মাত্র আড়াই বছর বয়স। তখন ও আমাকে ‌দিদি বলত। একদিন ও আমাকে বলে, ‘‌দিদি, আমি দল করব।’‌‌ পরবর্তীকালে অভিষেক রাজনীতিতে আসে। নির্বাচনে তাকে মানুষ জয়ী করে। এখানে তো আমার কিছু করার নেই। মানুষ চাইলে ও আবার জয়ী হবে।’‌  ‌

মালদার ২ তৃণমূল প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ও মৌসম নুরকে নিয়ে পদযাত্রায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার। ছবি: আজকাল

জনপ্রিয়

Back To Top