আলোক সেন, বাঁকুড়া:‌ '‌ত্রিপুরায় বিজেপির আসল স্বরূপ বেরিয়ে পড়েছে। গত ৩ দিন ধরে সেখানে ওরা চালাচ্ছে তান্ডব। তাই সামনের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিবেচনা করে ভোট দেবেন। এ রাজ্যে যত উন্নয়ন হয়েছে, তার সিংহভাগ কাজ করেছে পঞ্চায়েত। তাই নির্বাচনে তৃণমূলকে ফের নির্বাচিত করবেন, সেই বিশ্বাস আমার আছে।' মঙ্গলবার পাত্রসায়েরে এক প্রশাসনিক সভায় কথাগুলি বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন জনসভায় জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলার দলীয় বিধায়করা, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, সভাধিপতি অরূপ চক্রবর্তী প্রমুখ। এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ৭২ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যার অর্থমূল্য ১০৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। শিলান্যাস করেন ৪৫ টি নতুন প্রকল্পের। যার জন্য বরাদ্দ ১২১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ২০ হাজার ৩২৬ জন উপভোক্তার হাতে নানান সরকারি প্রকল্পের সহায়তা তিনি তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী জেলা ও রাজ্য জুড়ে যে উন্নয়নের কর্মকান্ড চলছে, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সবুজসাথী প্রকল্পে দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীরা আগেই সাইকেলে পেয়েছে। নবম শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, চলতি বছরে ৫৭ হাজার ছাত্রছাত্রীকে সাইকেল দেওয়া হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, অন্য দলগুলি শুধু ভোটের সময় জেলায় জেলায় আসে। আমি ভোটের সময় কম আসি। অন্য সময় বেশি আসি এই কারণে, উন্নয়নের কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করতে। তিনি বলেন, আগে এই জেলার ১৫ শতাংশ মাত্র মানুষ নলবাহিত জল পেতেন। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৬৫ শতাংশ। এই জেলার পাণীয় জল প্রকল্পে আরও ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তাতে আরও ১৮ লক্ষ মানুষ নলবাহিত পাণীয় জলের সুবিধা পাবে। তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে এই জেলায় এসেছিলাম। আমি বারে বারে এই জেলায় আসি। আর প্রচুর প্রকল্পের উদ্বোধন করে যায়, যা আগে কখনো হয় নি। তিনি বলেন, ২ টাকা দরে চাল ও গম পাচ্ছে রাজ্যের ৮ কোটি মানুষ। প্রতি কেজিতে রাজ্য সরকারকে ২২ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হয়। এ রাজ্যে মানুষ চিকিৎসা পায় বিনা পয়সায়। তিনি কন্যাশ্রী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই প্রকল্প আজ বিশ্ববন্দিত। এই প্রকল্পে রাজ্যের ৪৫ লক্ষ মেয়ে বৃত্তি পাচ্ছে। যেখানে দিল্লির সরকার একটি প্রকল্প করেছে, যার জন্য বরাদ্দ মাত্র ১০০ কোটি টাকা। মাথাপিছু ৩ টাকাও পড়ে না। ওরা মুখে শুধু বড় বড় কথা বলে। তিনি রূপশ্রী প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, বছরে দেড়লক্ষ টাকা রোজগার, সেই পরিবারের মেয়েরা বিয়ের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে পাবে। তিনি বলেন, একই মেয়ে কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী দুই পেতে পারে। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের সব খাজনা মুকুব করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী মিউটেশনের খরচও এক পয়সাও লাগবে না। তিনি একটি বিশেষ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করে বলেন, নিম্ন দামোদর অববাহিকা প্রকল্পের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। এই প্রকল্প রূপায়িত হলে, চার জেলা সেচের জন্য জল পাবে। তিনি বলেন, এবারের বন্যায় বেশ কিছু কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্য সরকার সেই কৃষকদের সাহায্য করতে ১২০০ কোটি টাকা দিয়েছে। তিনি বলেন, সিপিএম সরকারের ঋণের বাবদ ৪৮ হাজার কোটি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে নতুবা রাজ্যে আরও উন্নয়নের কাজ করা যেত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন এই রাজ্যের কন্যাশ্রীর মেয়েরা আমেরিকা, রাশিয়া জয় করবে। তারা সারা বিশ্বে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। 

জনপ্রিয়

Back To Top