অমিতাভ সিরাজ, সঞ্জয় বিশ্বাস: ৮ মাস পর পাহাড়ে এসে সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার এখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দার্জিলিঙে শিল্প গড়া হবে। আগামী মার্চ মাসেই শিল্পপতিদের নিয়ে আসব আমরা। পাহাড়ে শিল্পস্থাপনে সদর্থক ভূমিকা নেবে রাজ্য সরকার।’ 
গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পাহাড়ের সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে নবান্নে প্রথম বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেও ৪ বার নবান্ন ও উত্তরবঙ্গের উত্তরকন্যায় সর্বদলীয় বৈঠক করেছেন মমতা। লক্ষ্য একটাই, সবাইকে পাহাড়ের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এবার পাহাড়ে পা রেখে তিনদিন নাগাড়ে মুখ্যমন্ত্রী কাজ করে গেছেন দার্জিলিঙে শান্তি ফেরানো ও উন্নতির লক্ষ্যে।  
বৃহস্পতিবার রাজভবনের বলরুমে দুপুর পৌনে ২টো থেকে টানা ১ ঘণ্টারও বেশি দার্জিলিঙের মানুষের উন্নতি কীভাবে হয়, তা নিয়েই বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে জিটিএ–র কাজকর্মের পর্যালোচনা এবং জনজাতি পর্ষদের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। কারা ছিলেন? মোর্চা সভাপতি বিনয় তামাং, রোহিত শর্মা, অনীত থাপা, গোর্খা লিগের প্রধান ভারতী তামাং, লক্ষ্মণ প্রধান, বিপ্লব রাই, জিএনএলএফের সভাপতি মন ঘিসিং, নীরজ জিম্বা থেকে জিটিএ–র সব সদস্য। ছিলেন লেপচা, তামাং, ভুজেল–সহ ১৩টি পর্ষদের চেয়ারম্যানরাও। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন, সঙ্গে মুখ্য সচিব মলয় দে এবং রাজ্য পুলিস প্রশাসনের পদস্থরাও। সঙ্গত কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক ‘সর্বদলীয়’ বলে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু কার্যত সব দলকে নিয়ে যেভাবে এদিন বসলেন তিনি, তাতে দার্জিলিঙের সার্বিক উন্নয়নের রেখচিত্র অনেকটাই ওপরে উঠে গেল। পরে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, ‘খুবই ভাল বৈঠক হয়েছে। দার্জিলিঙের উন্নয়ন নিয়ে সবাই একমত হয়ে আলোচনা করেছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, আদর্শ রয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের ব্যাপারে সবাইকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে শান্তি স্থাপনই প্রধান কাজ।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, দার্জিলিঙের যুবক–যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকার থেকে প্রচুর কর্মসূচি নেবে। তাঁর কথায়, ‘তথ্য–প্রযুক্তি শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এখানে। এছাড়াও হর্টিকালচার, হোম ট্যুরিজম, পর্যটনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছতে হবে।’ সিঙ্কোনাতে ১ হাজার একর জমি রয়েছে বলে এদিন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিল্পে দক্ষতা বাড়ালে কর্মসংস্থানের প্রচুর সুযোগ ঘটবে। তাতে কাজ পাবেন পাহাড়ের ছেলেমেয়েরা। তাই শিল্পপতিদের মার্চ মাসেই দার্জিলিঙে নিয়ে এসে বাণিজ্য সম্মেলন করব আমরা।’ আর মে মাসের শেষ নাগাদ কালিম্পঙে আরেকটি বৈঠক হবে। সেখানে আশপাশের সব গ্রাম থেকে যুবসম্প্রদায়কে নিয়ে এসে ‘কমিউনিটি’ উন্নয়নে শামিল করা হবে। ওই সভায় ১৫টি জনজাতি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং  সদস্যরাও থাকবেন। 
পাহাড়ের পরিস্থিতি অনেকটাই যে স্বাভাবিক হয়েছে, তা এদিনের বৈঠকে বিনয় তামাং, মন ঘিসিং, ভারতী তামাংরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানান। পাহাড়ি জনজীবনে উন্নয়ন কতটা জরুরি তা ইতিমধ্যেই তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে বোঝাতে পেরেছেন বলে দাবি করেন। বস্তুত, গত ৮ মাসে যেভাবে জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, তা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে সবাই। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের ভাবনাকে তাই বৈঠকে সকলেই স্বাগত জানান। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। আমরা চাইছি সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করে উন্নতি করতে।’ তাঁর মতে, এই উন্নয়নের জেরেই  পাহাড়বাসী শান্তিতে, আর্থসামাজিক উন্নয়নে আরও বেশি সক্রিয় হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানিয়েছেন, পাহাড়ের স্কুলগুলিতে যে সব শিক্ষক–শিক্ষিকা গন্ডগোলের জন্য বেতন পাননি, তাঁদেরও বেতন দেওয়া হবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top