বিভাস ভট্টাচার্য 

 

গাছ ভরে গেছে আমে। অথচ পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক নেই। দুশ্চিন্তায় মালদার আম ব্যবসায়ীরা। বাজারে ইতিমধ্যেই অন্য জায়গার আম আসতে শুরু  করলেও মালদার আম এখনও আসেনি। আর কিছুদিনের মধ্যেই যার ঢোকার কথা। প্রতি বছর আম–বাঙালি এই আমের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। কিন্তু এবছর? প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। 
আম বাগানে শ্রমিক সমস্যা নিয়ে জানতে গিয়ে মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জল সাহা বলেন, ‘‌আম এই সময় গাছে বড় হচ্ছে। এটা পাকার ঠিক আগের সময়। এখন রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচর্যা করাটা খুবই জরুরি। কারণ, পোকা বা সংক্রমণের ভয় থাকে। ঠিকঠাক এই কাজটার জন্য প্রয়োজন দক্ষ শ্রমিকের। অথচ করোনার এই পরিস্থিতিতে সকলের মতো এই শ্রমিকরাও বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন। যেটা খুবই স্বাভাবিক। ফলে ঠিকঠাক পরিচর্যা না হলে তার ধাক্কা লাগতে পারে উৎপাদনেও। এটা বলতে পারছি কারণ আমি নিজেই একজন আমচাষি।’‌ 
এবছর গোটা জেলায় সাড়ে তিন লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে আশাবাদী মালদার আম ব্যবসায়ীরা। 
‘‌কিন্তু হলে কী হবে? করোনা পরিস্থিতির জন্য এবছর একটা বিরাট আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’‌ সভাপতি জানালেন। আমের সঙ্গে ধাক্কা খেতে পারে মালদায় তৈরি আমের আচার ও আমসত্ত্বেও। তাঁর কথায়, ‘‌মালদায় হিমসাগর, ফজলি, লক্ষণভোগ, আম্রপালি বা অন্যান্য আমের সঙ্গে উৎপাদন হয় আশ্বিনা নামে একটি আম। যেটা মূলত আচার তৈরিতে কাজে লাগে। এই অবস্থা চলতে থাকলে যেমন এই আমের ফলন মার খাবে, তেমনি মার খাবে আমসত্ত্ব তৈরি। কারণ, সেখানেও আম পরিচর্যার মতো দরকার দক্ষ শ্রমিকের।’‌ 
কোথায় কোথায় যায় এই জেলার আম? উজ্জ্বল জানিয়েছেন, ‘‌দক্ষিণবঙ্গ ছাড়াও মালদার আম পাঠানো হয় উত্তর–পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে। এছাড়া যায় ঝাড়খণ্ড ও বিহারে। আগে বাংলাদেশে গেলেও সেখানে আমদানি শুল্ক বেড়ে যাওয়াতে তাই সেভাবে যায় না। গোটা জেলার অর্থনীতির এক বিরাট অংশ জড়িয়ে আছে এই আমের সঙ্গে।’‌ 
অবস্থা সামাল দেওয়া যাবে কীভাবে? জেলার উপ উদ্যানপালন অধিকর্তা কৃষ্ণেন্দু নন্দন জানিয়েছেন, ‘‌কিছুটা শ্রমিক সমস্যা সবসময়ই থাকে। গতবছর শ্রমিক সমস্যা হয়নি তার কারণ হল পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলায় ফিরে এসেছিলেন। এবছর তাঁরা সেভাবে কেউ তাঁদের কর্মস্থল থেকে আসেননি। ফলে আম পাড়ার ক্ষেত্রেও একটা সমস্যা হতে পারে। ফলে ঠিকঠাক যদি সব কাজ না হয়, তবে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। আমরা চেষ্টা করছি সমস্যার সমাধান করতে। আগামীদিনে এখনকার পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস এবং সেটা হলে সব সমস্যারই সমাধান হবে।’‌ 
 

জনপ্রিয়

Back To Top