অভিজিৎ চৌধুরি,মালদা: উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলিতে আনন্দবিহার এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাগ্রস্ত হওয়ায় উদ্বেগ মালদায়। মালদা থেকেই দিল্লির উদ্দেশে ছাড়ে ট্রেনটি। ট্রেনে মালদার অনেক যাত্রী থাকায় দুর্ঘটনার খবরে তাঁদের আত্মীয়–পরিজনদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকেই মালদা স্টেশনে ভিড় করেন পরিজনদের খোঁজ নেওয়ার জন্য। রেলের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকেই যাত্রীদের সম্পর্কে খোঁজ দেওয়া হয়। যদিও মালদা রেল ডিভিশন সূত্র থেকে জানানো হয়েছে, ওই ট্রেন দুর্ঘটনায় মালদার কোনও যাত্রীর মৃত্যুর খবর নেই। তবে বেশ কিছু যাত্রী জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মানিকচক, হরিশ্চন্দ্রপুর, কালিয়াচকের কয়েকজন রয়েছেন। 
মঙ্গলবার এবং শনিবার আনন্দবিহার ট্রেনটি মালদা টাউন স্টেশন থেকে ছাড়ে। যে ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, সেটি মঙ্গলবার রাত ন’‌টা নাগাদ মালদা ছেড়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়। বুধবার সকাল ছ’‌টা নাগাদ উত্তরপ্রদেশের রায়বেরেলি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে হরচন্দ্রপুর এলাকায় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে ট্রেনটি। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মৃত ৫ জনের তালিকা এসেছে। সকলেই বিহারের। সেই তালিকায় মালদার কোনও যাত্রীর নাম নেই। তবে মালদার কয়েকজন যাত্রী জখম হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে রায়বেরেলির বিভিন্ন হাসপাতালে। দুর্ঘটনার খবর জানাজানি হতেই মালদা টাউন স্টেশনে উদ্বিগ্নদের ভিড়। সকাল আটটা নাগাদ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়। সেখানে ছিলেন মালদা ডিভিশনের উচ্চপদস্থ কর্তারা। 
মালদা টাউন স্টেশনের ম্যানেজার দিলীপ চৌহান বলেন, ওই ট্রেনে সফররত যাত্রীদের পরিজনদের সুবিধার্থেই এক নম্বর প্লাটফর্মে হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে। তাতে দুটি নম্বর দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁদের মধ্যে সাতজন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মালদার আহত যাত্রীদের নাম সেলিম শেখ (২২) ও নিজাম শেখের বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়। চাঁদ মণ্ডল (৬২) থাকেন কালিয়াচক থানার মেহেরাপুর এলাকায়। সরিফুল সেখ (৩২) মানিকচক থানার নুরপুরের বাসিন্দা। ইংরেজবাজার থানার মহাদিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঞ্চনটার এলাকার বাসিন্দা নিজাম শেখ বলেন, ‘‌ওই ট্রেনে আমার এক ভাই সাইদুল শেখ (৩৪) ছিল। দুর্ঘটনার পর থেকে ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারিনি।’‌ পূর্ব রেলের মালদার ডিআরএম তনু চন্দ্রা জানিয়েছেন, ‘‌ট্রেনটি যেসব স্টেশনের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। সেই সব স্টেশনে হেল্পডেস্ক খোলা হয়েছে। প্রত্যেক স্টেশনেই হেল্পডেক্সের নম্বর জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top