আজকালের প্রতিবেদন- সব গুছিয়ে নিতে সময় লাগবে আরও কিছুদিন। সোমবার থেকেই খুলছে না বাংলার সব মন্দির, মসজিদ, গির্জা। পুরীর পথে হেঁটেই এবার স্থগিত রাখা হচ্ছে শ্রীরামপুর মাহেশের রথযাত্রা। ১৫ জুনের পর খুলতে পারে তারাপীঠ মন্দির। দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দির খোলার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থাকলেও খুলে দেওয়া হচ্ছে আদ্যাপীঠ। বেলুড় মঠ আপাতত খুলছে না। বন্ধ থাকবে তারকেশ্বর মন্দিরও। নাখোদা মসজিদে একেক বারে সর্বোচ্চ ১০ জনকে নিয়ে নমাজ হবে। কাপড় পেতে নয়, নমাজ পড়তে হবে মাটিতে বসে। অন্য বেশ কিছু মসজিদে প্রস্তুতির জন্য আরও সময় লাগবে। ব্যান্ডেল চার্চে শুধুমাত্র প্রার্থনাগৃহ খোলা হবে। তবে সেখানে ১০ জনের বেশি প্রবেশ করতে পারবে না।
এ বছর যে পুরীর রথযাত্রা হবে না, তা আগেই জানানো হয়েছিল। এবার স্থগিত রাখা হল ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীন শ্রীরামপুর মাহেশের রথযাত্রাও। ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান, শনিবার হুগলির জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং শ্রীরামপুর পুরসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সেখানেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার ৬২৪ বছরে পদার্পণ করল মাহেশের রথযাত্রা। রথের চাকা না গড়ালেও পুজো হবে। জগন্নাথ মন্দিরের পিছনে ভোগঘর হবে এ বছরের মাসির বাড়ি। সেখানেই ৯ দিন ধরে চলবে পুজোপাঠ। তবে ভক্তদের প্রবেশ নিষেধ থাকবে। ভোগ বিতরণও হবে না।
তারাপীঠ মন্দিরের সেবায়েত সমিতি এবং মন্দির কমিটি শনিবার একটি জরুরি বৈঠক করে। কমিটির সভাপতি তারাময় মুখার্জি বলেন, ‘‌আপাতত সোমবার থেকে সাধারণ ভক্তদের জন্য মন্দির খোলা হবে না। ১৪ জুন ফের পর্যালোচনা বৈঠক হবে। ১৫ জুনের পর মন্দির খোলা হবে কিনা সে ব্যাপারে সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মাঝের এই সময় আমরা মন্দির চত্বর পুরোপুরি স্যানিটাইজ করার কাজ করব। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মন্দিরের জন্য ৩টি স্যানিটাইজিং টানেল দেওয়া হচ্ছে। সেগুলি বসবে মন্দিরের গেটে।’‌‌
সোমবার থেকেই ভক্তদের জন্য দক্ষিণেশ্বর ভবতারিণী মন্দির খুলে দেওয়ার ব্যাপারে মন্দির কর্তৃপক্ষ পরিষ্কারভাবে কিছু জানায়নি। শনিবার সেখানকার এক কর্মী জানান, তাঁদের কাছে মন্দির খোলার ব্যাপারে এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি। মন্দিরের সম্পাদক কুশল চৌধুরিকে ফোনে পাওয়া যায়নি। মন্দির খোলার ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান কামারহাটি পুরসভার পুরপ্রধান গোপাল সাহা। তবে এদিন আদ্যাপীঠের মহাসচিব ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই জানান, সরকারি নির্দেশ মেনে সোমবার থেকেই খুলে দেওয়া হচ্ছে আদ্যাপীঠ মন্দিরের মূল গেট।
ভক্তদের কথা ভেবেই সোমবার থেকে খুলছে না বেলুড় মঠ। ১৫ জুনের পর এ ব্যাপারে মঠের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা ভক্তদের উদ্দেশে নোটিস করে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রধান কার্যালয় বেলুড় মঠের তরফে জানা গেছে। ১ জুন থেকে খুলছে না তারকেশ্বর মন্দিরও। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথমত তাঁদের কাছে সরকারি কোনও নির্দেশিকা এসে পৌঁছয়নি। তারকেশ্বর ডেভলপমেন্ট অথরিটির সঙ্গে কোনও বৈঠকও হয়নি। তাই সোমবার মন্দিরের গর্ভগৃহ খুলবে না। পরে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, এ বছর ঘটপুজো করেই নিয়ম রক্ষা করা হল চুঁচুড়া ধরমপুরের মহিষমর্দিনী পুজোর।
অন্যদিকে, নাখোদা মসজিদে একেক বারে সর্বোচ্চ ১০ জনকে নিয়ে নমাজ হবে সোমবার থেকে। মসজিদের ইমাম মৌলানা মহম্মদ শফিক কাসমি জানান, একটি জামাত হয়ে গেলে মসজিদ স্যানিটাইজ করে আরেকটি দলকে নমাজ পড়তে অনুমতি দেওয়া হবে। কোনওরকম কাপড় বা কার্পেট পাতা হবে না। মাটিতে বসে নমাজ পড়া হবে। টিপু সুলতান মসজিদের পক্ষে সামি মুবারকি জানান, স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এ মসজিদে ৫ জনকে নিয়ে আগে যেমন নমাজ হচ্ছিল তেমনই হবে।‌ বঙ্গীয় ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রইসউদ্দিন পুরকায়েত জানিয়েছেন, ছোট ছোট মসজিদে আর্থিক সমস্যা আছে। স্যানিটাইজার কিনতে টাকা দরকার। গ্রামাঞ্চলে বহু এলাকায় স্যানিটাইজার পাওয়া সহজ নয়। তাই উপযুক্ত প্রস্তুতি যতদিন না নেওয়া যাচ্ছে ততদিন প্রতিটি মসজিদে ৫ জন করে নমাজ পড়াটাই ভাল।‌‌‌‌‌
সোমবার থেকে শুধুমাত্র প্রার্থনাগৃহ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যান্ডেল চার্চ কর্তৃপক্ষ। শনিবার চার্চের ফাদার ফ্রান্সিস জানান, প্রার্থনাগৃহে ১০ জনের বেশি প্রবেশ করতে পারবে না। প্রার্থনা শেষে সকলকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে হবে। বাগান বা গির্জার অন্যত্র ঘোরাঘুরি করা যাবে না। সকলকে বজায় রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব।

তথ্য সঙ্কলন:‌ ‌মিল্টন সেন, ‌অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়, উদয় বসু, প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়, তারিক হাসান‌

জনপ্রিয়

Back To Top