আজকালের প্রতিবেদন- মাধ্যমিক পরীক্ষার দিনগুলোয় ভেনুতে থাকা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা মোবাইল ফোন না আনলেই ভাল হয়। এমনই বক্তব্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গাঙ্গুলির। এতদিন পরীক্ষাচলাকালীন মোবাইল বন্ধ করে জমা রাখার কথা বলে এসেছে পর্ষদ। এ বছর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের উদ্দেশে সভাপতির আবেদন, ‘‌সবথেকে ভাল হয় যদি মোবাইল না আনেন।’‌ 
আজ, মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক। চলবে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থী ছাড়া কারও কাছে প্রশ্ন থাকবে না। পরীক্ষা পরিচালনা করবেন একজন সরকারিকর্মী। যিনি হবেন ভেনু ইন–‌চার্জ। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৮ হাজারের কিছু বেশি। ২০১৭–র মাধ্যমিকেও সব মিলিয়ে ৮২ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী কমেছিল। এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ১০ লক্ষ ৬৪ হাজার ৯৮০ জন। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। ছাত্রী ৫৬.‌৬৫ শতাংশ।  ছাত্র ৪৩.‌৩৫ শতাংশ। পরীক্ষার্থী কমার ব্যাখ্যায় সভাপতি বলেন, ‘‌মাধ্যমিকে পাশের হার বাড়ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, গত ১০–‌১৫ বছর ধরেই জন্মের হার কম। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ফি বছরই ওঠানামা করে। এ বছর ১৮ হাজার কমা অস্বাভাবিক নয়।’
মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে কড়া পর্ষদ। সভাপতি বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টায় সবাই মোবাইল বন্ধ করে প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা রাখবেন। যেখানে মোবাইল থাকবে এ বছর তার চাবি থাকবে ভেনু ইন–‌চার্জের কাছে। সব থেকে ভাল হয় যদি এই কটা দিন মোবাইল না আনেন। কিন্তু মোবাইল এখন অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে। তাই আনলেও জমা দেওয়াটা সুনিশ্চিত করতে বলেছি।’‌ কেউ পরীক্ষাচলাকালীন মোবাইল নিয়ে ধরা পড়লে পর্ষদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেনু ইন–‌চার্জ ও সুপারভাইজার, অতিরিক্ত ভেনু সুপারভাইজার, সেন্টার সেক্রেটারি ও ইন–‌চার্জ— শুধু এই পাঁচজন মোবাইল ব্যবহার করবেন।
এ বছর পরীক্ষার্থীদের সামনে প্রশ্নের প্যাকেট খোলা হবে। তার সময়ও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে পর্ষদ। ১১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে ভেনু ইন–‌চার্জের নেতৃত্বে প্রতিটি হলে প্রশ্ন পৌঁছবে। ১১টা ৪০ মিনিটে এই প্যাকেটের সিল কেটে তা বিলি হবে। ১১টা ৪৫ থেকে পরীক্ষা শুরু। কল্যাণময় বলেন, ‘‌প্রতিটি ঘরে ১০–‌এর গুণিতকে পরীক্ষার্থী থাকবে। প্যাকেটেও ১০টি করে প্রশ্ন থাকবে। ঘর অনুযায়ী প্যাকেট যাবে। বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, শেষ ঘরে কোনও বাড়তি প্রশ্ন থাকলে বা কেউ অনুপস্থিত থাকলে সেই প্রশ্ন ১১টা ৪৫ মিনিটেই সংগ্রহ এবং সিল করে লকারে তুলে রাখবেন ভেনু ইন–‌চার্জ।  এর জন্য প্রতিটি স্কুলে তাঁকে একটি লকার দিতে বলা হয়েছে।’‌  নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা এ বছর ৫,৩৫,৫৩৭ এবং ছাত্র ৪,৩৯,০২১।  প্রধান পরীক্ষক এবং পরীক্ষকদের সংখ্যাও বেড়েছে। কেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৩৫টি।

জনপ্রিয়

Back To Top