বুদ্ধদেব দাস,মেদিনীপুর: সমাজের মূল স্রোতে এসে নিজেদের আর্থ সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য রাজ্য সরকারের সাহায্যের পাশাপাশি নিজেরাও সাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন লোধা–শবররা। ছোট ছোট দল গড়ে মহিলারা গড়ে তুলেছেন স্বসহায়ক গোষ্ঠী। প্রতি গোষ্ঠীতে ১০ জন করে মহিলা। কোনও গোষ্ঠীর সদস্যরা শাল পাতার থালা, বাটি তৈরি করছেন। কোনও গোষ্ঠী বাবুই ঘাস দিয়ে দড়ি, খেজুর পাতা দিয়ে চাটাই, নারকেল পাতা দিয়ে ঝাঁটা, পাপোশ তৈরি করছে। কোনও গোষ্ঠী বড়ি তৈরি করছে, আবার কোনও গোষ্ঠী ইমিটেশনের গয়না। 
শুক্রবার মেদিনীপুরের প্রদ্যোত স্মৃতি ভবনে এরকমই এক হাজার লোধা–‌শবর মহিলার সঙ্গে মিলিত হলেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা। শুনলেন তাঁদের অভাব–অভিযোগ ও কাজের অভিজ্ঞতার কথা। কঁাচামাল সংগ্রহ থেকে পণ্য তৈরি ও তা বাজারজাত করা সব নিজেরাই করছেন। জেলাশাসক তাঁদের জানান, রাজ্য সরকার সবসময় তঁাদের পাশে রয়েছে। লোধা–‌শবরদের উন্নয়নের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্প নিয়েছে সরকার। যেসব মহিলা স্বসহায়ক গোষ্ঠী গড়ে আর্থিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন তাঁদের সবরকমের সাহায্য করা হবে। আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁরা কীভাবে নিজেদের ভাবনাগুলো মেলে ধরবেন জেলাশাসক সেকথাও তাঁদের জানান। জনমুখী সরকার যে সবসময় তাঁদের পাশে রয়েছে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। 
পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বসবাসকারী ১৬ হাজার লোধা পরিবারের  ৯০ হাজার লোধা–‌শবর মানুষের জন্য খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার। মেদিনীপুরের প্রদ্যোত স্মৃতি সদনে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার, জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা সিংহ হাজরা, সহ–‌সভাধিপতি অজিত মাইতি, লোধা–‌শবর কল্যাণ সমিতির সম্পাদক বলাই নায়েক। লোধা–‌শবর কল্যাণ সমিতির সম্পাদক  জানান, আগের বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে লোধা–‌শবরদের কোনও খোঁজখবর রাখত না সরকার। না খেতে পেয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। গত ৮ বছরে এই ঘটনা ঘটেনি। তাঁদের আর্থ সামাজিক অবস্থার বদল ঘটাতে সচেষ্ট সরকার। জেলা পরিষদ প্রতিটি লোধা–‌শবর পরিবারের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিচ্ছে।‌

মেদিনীপুরে লোধা শবরদের নিয়ে প্রশাসনের সভা। ছবি: স্বরূপ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top