আজকালের প্রতিবেদন- করোনা ভাইরাস রুখতে রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশ মতো সোমবার বিকেলে ঘড়ির কাঁটায় পাঁচটা বাজতেই দক্ষিণবঙ্গের ঘোষিত শহরগুলিতে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। লকডাউন সফল করতে রাস্তায় নামে পুলিশ–প্রশাসনও। 
ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক সুকান্ত সাহার নেতৃত্বে পুলিস ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা জরুরি পরিষেবার বাইরে থাকা সমস্ত দোকান, গোডাউন বন্ধ করে দেন। শহরের জেটিঘাট থেকে কপাটহাট পর্যন্ত এই অভিযান চলে। আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। এই আইন অমান্য করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানগুলিকেও দিনে নির্দিষ্ট সময় মেনে খুলতে বলা হয়েছে। বিকেল পাঁচটার পর থেকেই মুর্শিদাবাদের রাস্তা শুনশান হয়ে যায়। দুপুর থেকে পুলিশ ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর বহরমপুর শহর–সহ জেলায় করোনা ও লকডাউন নিয়ে মাইকে প্রচার করে। গত দু’‌দিন ধরে ভিন রাজ্য থেকে শ্রমিকরা বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। জেলায় আসার পর তাদের পরীক্ষার পর অনেকেই বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামান্য সন্দেহ থাকলেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে। কোনও অজুহাত প্রশাসন শুনছে না। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস জানান, বিদেশ বা ভিন রাজ্য থেকে এলেই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এবং ১৪ দিন বাড়ির মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। 
করোনা রুখতে অন্যান্য জায়গার মতো আসানসোল পুরনিগমের ১০৬টি ওয়ার্ডে সোমবার সন্ধে থেকে লকডাউন শুরু হয়ে যায়। মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি বলেন, ‘‌আসানসোল পুরনিগমে একটা কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। এটা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে। কাল থেকে চারদিন বেলা বারোটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত আমি বসব এই কন্ট্রোল রুমে।‌’‌ বিকেল পাঁচটা বাজতেই পূর্ব বর্ধমানের বিসি রোডে একের পর এক দোকানের ঝাঁপ পড়তে শুরু করে। ব্যস্ততম এই রাস্তায় যানবাহন চলাচল কমে গেল। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। এদিন সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মানুষজনকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে এদিন সকাল থেকেই সবজির বাজারগুলিতে উপচে পড়ল মানুষের ভিড়। 

তথ্যসূত্র:‌ গৌতম মণ্ডল, প্রদীপ দে, দেবব্রত ঘোষ, বিজয়প্রকাশ দাস‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top