আজকালের প্রতিবেদন- সোমবার সকালে যেন ‘‌কার্ফু’‌ শিথিল হবে!‌ রবিবার রাত থেকে তাই একরাশ উদ্বেগ সকলের। অপেক্ষা কখন ভোর হবে। অনেকের দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস। দীর্ঘদিনের অভ্যাস রাতারাতি বদলে গেল। সোমবার ভোরে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙতেই বাজারের থলে হাতে পড়িমড়ি করে যে যেমন করে পারলেন ছুটলেন বাজারের দিকে। গিয়েই হাতের কাছে শাক, সবজি, আনাজ, আলু–পেয়াঁজ যা পেলেন, কিনতে শুরু করলেন। সংগ্রহ করলেন হেঁশেলের রসদ। সকালেই বাজারে বেশ ভিড় জমল। বেলা বাড়ার তা আরও বাড়ল। দোকানে দোকানে উপচে পড়া ভিড়। একে অপরের প্রায় যেন গায়ে উঠে কেনাকাটা করলেন। তারপরও প্রত্যেকেই একে অপরের প্রতি একটু সন্দিগ্ধ। আড়চোখে দেখে নিচ্ছেন। কেউ একটু হাঁচলেই পাশেরজন আঁতকে উঠে দু’‌পা পিছিয়ে গেলেন। প্রত্যেক দফা কেনাকাটার পর অনেকেই পাশের কলে গিয়ে কেউ হাত ধুলেন তো অন্যজন পকেট থেকে স্যানিটাইজার বের করে হাত পরিষ্কার করে নিলেন। সোমবার বিকেল ৫টায় লকডাউন শুরু। চলবে ২৭ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত। সরকারি ঘোষণা, এই দিনগুলোয় রোজ বাজার, মুদিখানা দোকানের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে। তারপরও এদিন সকাল সকাল দলে দলে বাজারমুখী হলেন। সকলেরই শঙ্কা, পরে গেলে যদি বাজারে কিছু পাওয়া না যায়। একই ছবি ব্যাঙ্কেও। সকাল সকাল গিয়ে লাইন দিলেন। লম্বা লাইন পড়ল মাছ, মুরগির দোকানে। অনেকের খাদ্যাভ্যাসেও রাতারাতি বদল এল। চাউমিন, ম্যাগি, পাস্তা অনেকেরই অপছন্দের। পরে যদি ভাঁড়ারে কম পড়ে?‌ তাই সাত সকালে অনেককেই দেখা গেল কয়েক প্যাকেট করে এই চাউমিন, পাস্তা কিনে ব্যাগে ভরে নিলেন। ভাবনা একটাই, কিছু তো খাওয়া যাবে। পরিস্থিতি এমন হল যে, বাজারে ঢুকতে গিয়েই অনেককেই বেগ পেতে হল। সবজির দোকানে উপচে পড়া ভিড়। কেউ কোনও একটা দোকানের কাছে পৌঁছতেই একাধিক সবজি কয়েক কিলো করে কিনে নিলেন। চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও তাই। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি–সহ বিভিন্ন জেলা— সর্বত্র একই চিত্র। বহু বাজারে সকাল ৮টা, ৯টার মধ্যেই জিনিসপত্র ফুরোলো। যাঁরা পরে বাজারে গিয়েছিলেন তাঁদের অনেকেই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন খালি হাতে। হাওড়ায় রবিবার রাতে চড়া দামে আলু বিক্রি শুরু হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছে গেল পুলিশ। ঠিক করে দিল বাড়তি দাম নেওয়া যাবে না। ক্রেতা পিছু এক কিলো করে দেওয়া হবে। বেশ কয়েক জায়গায় দোকানদাররা জানিয়ে দিলেন রোজই বাজার খুলবে। পরে এসে আবার কিনবেন। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মুদিখানার দোকানেও উদ্বিগ্ন ক্রেতাদের ভিড় ছিল। আগে যাঁরা যাওয়ার সুযোগ পেলেন তাঁরা কয়েক কিলো করে ডাল, তেল, নুন, আটা, ময়দা কিনে ব্যাগে ভরলেন। চাল কিনলেন কয়েক বস্তা। ফলে এক্ষেত্রেও দেরিতে গিয়ে অনেকেই কিছুই আর পেলেন না। সুযোগ বুঝে বেশ কিছু জায়গায় শাক–সবজি, আনাজের দামও চড়ল। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হল ১০০ টাকা কেজি। ঝিঙে, উচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। পটল ৭০ থেকে ১০০, বেগুন ৬০, কুমড়ো ৮০, বিনস ২০০ টাকা কেজি। জ্যোতি আলু বিক্রি হয়েছে ২২ থেকে ২৪ টাকায়, চন্দ্রমুখী ৩০–এ। করোনা আতঙ্কে গত কয়েকদিন ধরে মুরগির মাংসের দাম ক্রমে নামতে নামতে এলাকা ভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। এখন এক লাফে দাম বেড়ে কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। ডিমের দামও বেড়েছে। তার পরেও লোকে বাড়তি কিনে নিচ্ছেন। অনেক জায়গায় আবার বাড়তি দাম দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। একই অবস্থা মাছের বাজারেও। সকাল ৮টার মধ্যে অধিকাংশ বাজারেই মাছ শেষ।‌‌‌

ধূম পড়েছে সবজি কেনার। সোমবার,যাদবপুর বাজারে। ছবি:‌ বিজয় সেনগুপ্ত

জনপ্রিয়

Back To Top