সোমনাথ নন্দী, লালগড় (ঝাড়গ্রাম): বুধবার লালগড় থানা থেকে ১৮টি বন্দুক চুরির অভিযোগে এক কর্মরত সাব–ইনস্পেক্টর–সহ ৪ জনকে আদালতে তোলা হয় ঝাড়গ্রাম এসিজেএম আদালতে। বিচারক ধৃতদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতরা হলেন সাব–ইনস্পেক্টর তারাপদ টুডু, এনভিএফ কর্মী লক্ষ্মীরাম রানা, দুই গ্রামবাসী দিলীপ সেনাপতি ও সুধাংশু সেনাপতি। এরা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। ধৃত পুলিশ সাব–ইনস্পেক্টর তারাপদ টুডু জামবনি থানায় কর্মরত ছিলেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, ষড়যন্ত্র করা ইত্যাদি ধারায় মামলা করা হয়েছে। এদিকে, এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় চাঞ্চল্য দেখা দেয়। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অমিতকুমার ভরত রাঠোর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌লালগড় থানা থেকে ১৮টি বন্দুকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু’‌জন গ্রামবাসী ও দুই পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।’‌
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যে কোনও থানায় অস্ত্র রাখা হয় সাধারণত থানার স্টোর রুমে। পুলিশের ভাষায় তাকে মালখানা বলা হয়। এই মালখানার দায়িত্বে ছিলেন থানার সাব–ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার এক পুলিশ অফিসার। লালগড় থানায় কর্মরত থাকাকালীন এই মালখানার দায়িত্বে ছিলেন সাব–ইনস্পেক্টর তারাপদ টুডু। তিনি লালগড় থানায় প্রথম এই দায়িত্ব পান ২০১৯ সালের ২০ জুলাই। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে তাঁরা জামবনি থানায় বদলি হয়ে যান। লালগড় থানায় তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পান সাব–ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ পাল। ৪ দিন আগে তারাপদ টুডু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মালখানার দায়িত্ব নতুন সাব–ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ পালকে বুঝিয়ে দেন। সেই সময় সমস্ত কিছু বোঝাতে গিয়ে মালাখানায় রাখা ১৮টি বন্দুকের হিসাব মিলছিল না। থানার মালাখানার খাতাতেও সেই তথ্য লেখা ছিল না। বিষয়টি লালগড় থানার আইসি অরিন্দম ভট্টাচার্যের নজরে আসে। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ওই দিনই লালগড় থানার পুলিশ লালগড়ের দুই গ্রামবাসী দিলীপ সেনাপতি, সুধাংশু সেনাপতি ও এনভিএফ কর্মী লক্ষ্মীরাম রানাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর লালগড় থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল জামবনি গিয়ে গ্রেপ্তার করে জামবনি থানায় কর্মরত সাব–ইনস্পেক্টর তারাপদ টুডুকে। জানা গেছে, চুরি যাওয়া বন্দুকগুলি সব এক ও দোনলা লাইসেন্স বন্দুক। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বন্দুকের লাইসেন্স যাঁর নামে তাঁর মৃত্যু হলে তাঁর বন্দুক অনেক সময় পুলিশের কাছে জমা থাকে। কোনও ব্যক্তি বৃদ্ধ হলে তাঁর লাইসেন্স বন্দুক বা বন্দুকের মালিকের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হলে সে সব বন্দুকও থানায় জমা করার নিয়ম আছে। ঝাড়গ্রাম আদালতের সরকারি আইনজীবী পবিত্রকুমার রানা বলেন, ‘‌লালগড় থানায় অস্ত্র মেলানোর সময় হিসেবে গরমিল ধরা পড়ে। অস্ত্র বেরিয়ে গেছে অথচ খাতায় লেখা নেই। তাই বেআইনি অস্ত্র পাচারের অভিযোগে ধৃত ৪ জনকে এদিন আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। আবার ২৭ জানুয়ারি আদালতে হাজির করতে হবে।’‌ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে এই ঘটনার সঙ্গে আর কোনও পুলিশকর্মী জড়িয়ে আছেন কি না।                      ছবি:‌ সোমনাথ নন্দী

জনপ্রিয়

Back To Top