আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে রাতে পাঁশকুড়ার পার্টি অফিসে ঢুকে খুন করা হল। তৃণমূল কংগ্রেসের তরুণতুর্কি নেতা কুরবান শাকে(৩২) খুন করল দুষ্কৃতীরা। আর এই খুনের ঘটনায় এখন কাঠগড়ায় বিজেপি৷ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি৷
স্থানীয় সূত্রে খবর, পাঁশকুড়ার মাইসোরা অঞ্চলে নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন কুরবান৷ তখন কয়েকজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে এসে তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে। সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি৷ আর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তৃণমূল নেতার৷ মাথা লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। নিহত কুরবান শা ছিলেন পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ–সভাপতি৷
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাঁশকুড়া থানার পুলিশ৷ তবে কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তা জানা যায়নি। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। মহানবমীর রাতে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি তথা পাঁশকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান নন্দকুমার মিশ্রর দাবি, ‘‌তৃণমূলের আনিসুর রহমান বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর থেকেই নানা ঝামেলা করছিল৷ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই তাঁকে খুন করা হয়েছে।’‌ অধুনা বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান বলেন, ‘‌আমি বর্তমানে কাঁচরাপাড়ায় মুকুল রায়ের বাড়িতে আছি। এই ঘটনা সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই।’‌
কুরবানের অনুগামীদের দাবি, পাঁচটি মোটরবাইকে সাতজন দুষ্কৃতী এসে মুহূর্তের মধ্যে কুরবানের অফিসে ঢুকে যায়৷ কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগে ওই দুষ্কৃতীরা কুরবানকে লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পার্টি অফিসের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন কুরবান। দুষ্কৃতীদের ধরার আগেই মোটরবাইক নিয়ে পাঁশকুড়ার দিকে চলে যায়। তদন্তে পুলিশ।
পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সৈয়দ মামদাদুল হাসান জানান, পাঁশকুড়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আনিসুর ঘনিষ্ঠ তিন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ৷ আর পাঁচটা দিনের মতোই সোমবার রাতে মাইশোরা বাজারে নিজের অফিসে বসেছিলেন পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ–সভাপতি কুরবান শা। রাত ১০টা নাগাদ দুষ্কৃতীরা পার্টি অফিসে হানা দিয়ে তৃণমূল নেতাকে খুন করে। কী কারণে এই খুন?‌ কারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত?‌ তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

Back To Top