Police: ‌‌বয়স্কদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে প্রতারণা!‌ নতুন চক্র ধরল কলকাতা পুলিশ

সব্যসাচী সরকার:‌ কলকাতায় নতুন ধরনের প্রতারণাচক্র ধরল পুলিশ।

একেবারেই নতুন ‘‌মোডাস অপারেন্ডি’‌। দুষ্কৃতীদের টার্গেট বয়স্ক মানুষ। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৪ জন দুষ্কৃতীকে নিউ ব্যারাকপুর থেকে ধরেছে পুলিশ। জেরা করে তাদের কাছ থেকে যে কৌশলের কথা জানা গেছে, তাতে রীতিমতো অবাক হয়েছেন গোয়েন্দারা। পথচলতি কোনও নিঃসঙ্গ বয়স্ক‌ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক পাতায়। এরপর কৌশলে তাঁকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলা হয় যে, ওই ব্যক্তি অসহায় হয়ে পড়েন। থানা–‌পুলিশের ভয় দেখানো হয়। এবং বলা হয়, কিছু টাকাপয়সা দিয়ে দিলে থানা–‌পুলিশের খপ্পর থেকে তিনি নিষ্কৃতি পাবেন।
ভয় দেখানো হয় এমনভাবে, যাতে টাকাকড়ি বা গয়না হাতিয়ে নেওয়া যায়। কিছুদিন ধরেই বয়স্ক মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চক্র চালাচ্ছিল একদন দুষ্কৃতী। গত ৮ এপ্রিল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ওয়াচ সেকশনে অভিযোগ আসে, বেলেঘাটা থানা এলাকায় এমন একটি ঘটনার। অভিযোগে বলা হয়, ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা অটোয় করে আসছিলেন। সে সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী ওই অটোয় ওঠে। তারপর বৃদ্ধার সঙ্গে ভাব জমায়। কথাবার্তা শুরু করে একজন দুষ্কৃতী। দ্বিতীয় জন হঠাৎ বৃদ্ধার নজর এড়িয়ে একটি টাকার বান্ডিল তাঁর পায়ের সামনে ফেলে দেয়। এমনভাব করে দুষ্কৃতী, যেন সে বুঝতে পারেনি, অজান্তেই টাকার বান্ডিল পড়ে গেছে নীচে। অন্যজন মুহূর্তের মধ্যে সেই বান্ডিল তুলে বৃদ্ধার ব্যাগে ফেলে দেয়। এরপর হঠাৎই একজন চেঁচিয়ে বলে, লাখ খানেক  টাকা ছিল, টাকার বান্ডিলটা কোথায় গেল। এই সময় অটো দাঁড় করিয়ে খোঁজা শুরু হয়। চলে আসে আরও ২ জন দুষ্কৃতী। এসেই বান্ডিল খোঁজার চেষ্টা করে। এরা বলে, মাসিমার কাছে বোধহয় টাকাটা আছে। প্রথম যে ব্যক্তি আলাপ শুরু করেছিল, সে বলে না, না, ওঁর কাছে কী করে থাকবে?‌ কিন্তু অন্য দুই দু্ষ্কৃতী বলে, মাসিমা টাকাটা ফেরত দিন। শুরু হয়ে যায় দুষ্কৃতীদের বিচিত্র কুকৌশল। তারা বলে, আপনার ব্যাগে টাকা পাওয়া গেল। কী করা যায় বলুন তো?‌ এবার তো থানা–‌পুলিশ করতে হবে। ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধার কাছ থেকে টাকা ও সোনার বালা হাতিয়ে সবাই পালায়। কলকাতায়, বিশেষত পুজোর সময় কেপমারদের দেখা পাওয়া যায়। তারা ভিনরাজ্য থেকে আসে। পুজো কাটলেই পালিয়ে যায়। কলকাতা পুলিশ বেশ কয়েকজনকে ধরেও ফেলে। কেপমারদের কৌশলকেই একটু অদল–‌বদল করে এই নতুন চক্র কাজ শুরু করেছে।

Pallabi Death: নিউ টাউনে কলসেন্টার রয়েছে সাগ্নিকের, জেরায় কী কী বললেন পল্লবীর ভাই?‌

পুলিশ বলছে, যে টাকার বান্ডিল নিয়ে এত কিছু, তা ফেরত চায় না। আসলে, বান্ডিলে শুরু ও শেষে আসল টাকা রয়েছে। ভেতরে সবই নকল টাকা। এই ঘটনা জানার পর ওয়ার সেকশনের কর্মীরা সোর্স কাজে লাগানো শুরু করে। এবং সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে নিউ ব্যারাকপুরের একটি এলাকায় হানা দেয়। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে হয় বাপি, রাকেশ, রাজু সাহা এবং তারক মুখার্জি নামে ৪ দুষ্কৃতীকে। তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যায় বৃদ্ধার সোনার বালা। পুলিশ বলছে, এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। পুলিশ তাদের সন্ধান চালাচ্ছে।  ‌‌‌

আকর্ষণীয় খবর