চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় , কেতুগ্রাম: কেতুগ্রামের বিখ্যাত বালাপোশ তৈরির শিল্পকে প্রচারের আলোয় আনা ও শিল্পীদের মুনাফার সংস্থান। এই লক্ষ্যে কেতুগ্রামে বালাপোশ হাব তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর জন্য সরকার ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করল। উন্নতমানের বালাপোশ তৈরির প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবে প্রশাসন। এই হাব থেকে উৎপন্ন বালাপোশ বিপণনেরও ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। বিডিও বনমালী রায় জানান, ‘হাব তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।’ 
কেতুগ্রাম ১নং ব্লকের মুরগ্রাম–গোপালপুরের শান্তিনগর গ্রাম বালাপোশ তৈরির জন্য বিখ্যাত। মৃদু শীতে বালাপোশ গায়ে দিয়ে আরামও হয় বেশ। এই গ্রামের মহিলারা দীর্ঘদিন ধরে সংসারের কাজ সামলে কাপড়ের ভিতর তুলো ভরে সেই রং–বেরংয়ের কাপড়ের ওপর সুতো দিয়ে নানা নকশা এঁকে বালাপোশ তৈরি করেন। এই বালাপোশের চাহিদাও ভালই। কিন্তু হলে কী হবে, গ্রামের মহিলারা খুবই গরিব। কাপড়, তুলো, সুতোর মতো বালাপোশ তৈরির উপকরণ নিজেদের কেনার ক্ষমতা নেই। নির্ভর করতে হয় মহাজনদের ওপর। মহাজনরা দরকারি কাঁচামাল কিনে দিয়ে যান। গ্রামের মহিলারা তাই দিয়ে বালাপোশ বানিয়ে এক একটি বালাপোশ তৈরি করে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা মেলে। তাতে কিছুই হয় না জানিয়ে বালাপোশ শিল্পী সরস্বতী সরকার, অনিতা সরকাররা বলেন, ‘দিনে খুব বেশি হলে একজোড়া বালাপোশ তৈরি করতে পারি। আগে তো এক একটি বালাপোশ তৈরি করে মাত্র ২৫ টাকা পেতাম। এখন তবু ৭০–৭৫ টাকা দিচ্ছে। অথচ শুনি, মহাজনরা চড়া দরে বালাপোশ বিক্রি করে। এখন সরকার এগিয়ে আসায় আমরা কৃতজ্ঞ। আর মহাজনদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।’
প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে ৩০ জন শিল্পীকে হাবের আওতাধীন করা হয়েছে। পরে সংখ্যা বাড়ানো হবে। আওতাভুক্ত শিল্পীদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে এখানকার বালাপোশ ভিনরাজ্য তো বটেই, বিদেশে পর্যন্ত পাঠানো যায়। এমনিতে শান্তিনগর গ্রামের ৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী বালাপোশ তৈরি করে। প্রতি গোষ্ঠীতে ১০–১২ জন সদস্য রয়েছেন। শিল্পী জ্যোৎস্না মণ্ডল, আঙুর সরকাররা জানালেন, বালাপোশ তৈরির কাজ খুবই সূক্ষ্ম। চোখের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। আবার তুলো ভরার সময় প্রচণ্ড ধুলো ওড়ায় হাঁচি–কাশির প্রকোপ বাড়ে। সরকার শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোয় খুশি শান্তিনগর।

জনপ্রিয়

Back To Top