সোহম সেনগুপ্ত- এখনও কাশ্মীরের ব্যবসার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। সারাদিনে সকালে মাত্র ঘণ্টাদুয়েক দোকান খোলা থাকে সেখানে। তাই কাশ্মীরে বেচাকেনা একপ্রকার নেই বললেই চলে। সোমবার বারাসতের হরিতলা মোড়ে নিজেদের ভাড়া করা জামাকাপড়ের গুদামে বসে এ কথাই জানালেন কাশ্মীরি শালবিক্রেতা মহম্মদ হুসেন ও নাদিম ফারুক। দিনতিনেক আগে শ্রীনগর থেকে বিমানে করে দমদম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তাঁরা। তাঁদের মধ্যে মহম্মদ হুসেন এসেছেন তাঁর স্ত্রী ও ২ সন্তানকে নিয়েই। হুসেন জানান, কাশ্মীরে ব্যবসার পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। তাই মরশুমের প্রায় মাসখানেক আগেই এ রাজ্যে চলে এসেছেন তাঁরা। একে একে আসবেন বাকিরাও। তিনি জানান, কাশ্মীরে স্কুলে পঠনপাঠন ঠিকমতো না হওয়ায় তাঁর সন্তানদেরও তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। পরে যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তা হলে তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চলে যাবেন।
সোমবার থেকেই গুদামে গোছগাছ শুরু করেছেন তাঁরা। দু–একদিনের মধ্যেই বারাসত হরিতলা মোড়ে দোকান খোলার ইচ্ছাও আছে তাঁদের। দীপাবলির আগে থেকেই এবার শহরের অলিগলিতে কাশ্মীরের শাল, সোয়েটার, জ্যাকেট নিয়ে দেখা যাবে কাশ্মীরি শালওয়ালাদের। মহম্মদ হুসেনের মতোই কাশ্মীরি শাল বিক্রেতা নাদিম ফারুক জানান, কাশ্মীরে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা তুলে দেওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির খবর পেয়ে তাঁরা সময়ের আগেই একরাশ আতঙ্ক নিয়ে ফিরেছিলেন কাশ্মীরে। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, কেন্দ্রের পাঠানো ৩৮ হাজার সেনা দিয়ে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে কাশ্মীরকে। মোবাইল, ল্যান্ডলাইন, ইন্টারনেট, টিভি সম্প্রচার— সব পরিষেবাই বন্ধ ছিল। ২২টি জেলার মধ্যে অন্তত ২০টাতে চলে কার্ফু। ৮০ লক্ষ মানুষ ছিল গৃহবন্দি। এই আতঙ্কের মধ্যেই পরিবারের সঙ্গে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছেন তাঁরা। কাশ্মীরে সেভাবে দোকানপাট খোলা না থাকায় একপ্রকার বাড়িতে বসেই দিন কাটাতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু এভাবে সংসার চালানো সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা অক্টোবর মাসেই ফিরলেন কলকাতায়। কাশ্মীরি শালওয়ালারা সময়ের আগেই বারাসতে ফেরায় খুশি স্থানীয় কাউন্সিলর তথা বারাসত পুরসভার উপপুরপ্রধান অশনি মুখার্জি। তিনি জানান, কাশ্মীর থেকে আসা ওই ব্যবসায়ীরা এখানে স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করে তাঁদের পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তাঁদের যে কোনও অসুবিধায় তিনি তাঁদের পাশে আছেন বলেও জানান অশনিবাবু।          

 কাশ্মীরি শালবিক্রেতারা। বারাসত হরিতলায়। ছবি:‌ ভবতোষ চক্রবর্তী‌

জনপ্রিয়

Back To Top