আজকালের প্রতিবেদন, কাটোয়া: কার্যকর উদ্যোগ কাটোয়া পুরসভার। পুরসভার অধীন শিশুশ্রমিক স্কুলগুলির পড়ুয়াদের আত্মরক্ষার পাঠ দিতে চালু হল ক্যারাটে প্রশিক্ষণ। পড়াশোনার সঙ্গেই পড়ুয়ারা ক্যারাটে শিখবে। পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘কাটোয়ার শিশুশ্রমিক স্কুলের পড়ুয়ারা এমনিতেই খুবই দরিদ্র পরিবারের। তাদের নিখরচায় লেখাপড়া ও টিফিনের ব্যবস্থা করেছে পুরসভা। এবার থেকে আত্মরক্ষার জন্য ক্যারাটে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা হল।’ 
কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম দপ্তরের অধীন জেলা শিশুশ্রমিক কল্যাণ পরিষদ ও জেলা প্রশাসনের পরিচালনায় কাটোয়া পুরসভা এলাকায় ৫টি শিশু শ্রমিক স্কুল চলে রোজ সকালে। মণ্ডলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভারতীভবন উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাদাসী চৌধুরানি বালিকা বিদ্যালয়, জানকীলাল শিক্ষাসদন ও বাগানেপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলগুলি চলে। স্কুলগুলিতে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের ৫০ জন পড়ুয়া রয়েছে। প্রতিটি স্কুলে ২ জন সাধারণ শিক্ষক, একজন বৃত্তিমূলক শিক্ষক ও খাবার তৈরির জন্য একজন রঁাধুনি রয়েছেন। শিক্ষকদের কাজ শুধু পড়াশোনা করানোই নয়, পুর এলাকাকে শিশুশ্রমিকমুক্ত করার অভিযানও চালান তঁারা। অভিভাবকরা যাতে তঁাদের নাবালক সন্তানদের দোকানে, ইটভাটায়, হোটেল–রেস্টুরেন্ট–সহ অন্যান্য জায়গায় কাজে না লাগান, সে ব্যাপারেও ধারাবাহিক  সচেতনতা কর্মসূচি পালন করেন। পড়াশোনার সঙ্গে ব্যাগ তৈরি, পুতুল তৈরি, বঁাশের সামগ্রী তৈরি, বই বঁাধানোর কাজও শেখানো হয়, যাতে পড়ুয়ারা ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দঁাড়াতে পারে। নিয়মিত স্কুলে এলে দেওয়া হয় ৪০০ টাকা মাসিক বৃত্তি। এসবের পাশাপাশি আত্মরক্ষার পাঠ হিসেবে ক্যারাটে প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করায় পুরসভাকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন অভিভাবকরা।
তঁাদের সন্তানরা ক্যারাটে শিখবে জেনে খুব খুশি তঁারা। কাটোয়া শহরের বাগানেপাড়ার বাসিন্দা আজিজ শেখ, জামাইপাড়ার বাসিন্দা খলিল শেখরা বলছিলেন, ‘শিশুশ্রমিকদের স্কুলে যারা পড়ে, তারা খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কারও বাবা রিকশা টানেন। কেউ চাল কলে, তেল কলে কাজ করেন। সকলেরই দিন আনা–দিন খাওয়া দশা। তঁাদের কারও ক্ষমতা নেই পয়সা খরচ করে সন্তানদের ক্যারাটে শেখানো। তাই কাটোয়া পুরসভা এই উদ্যোগ নিয়ে ভাল কাজ করেছে।’

প্রতীকী ছবি।

জনপ্রিয়

Back To Top