আজকালের প্রতিবেদন: অপরাজিতা, শঙ্খবেলা, চারুলতা, অনন্যা, আলোছায়া—জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবির নামে তৈরি বিভিন্ন শাড়িতে জমজমাট বাংলার তাঁতের হাট। পুজোর বাজারের জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হল এই মেলা। ১০৬ থেকে ৬ লাখের শাড়ি মিলবে বিকিকিনির এই হাটে। হাতে বোনা তাঁতের শাড়িতে শিল্পীরা কোথাও তুলে ধরেছেন‘‌কন্যাশ্রী’‌, কোথাও রামায়নের কাহিনী। বাংলার তাঁত শিল্প ও শিল্পীদের কেনা–বেচা ও পারস্পরিক মত আদানপ্রদানের মঞ্চ দিতেই এই হাট। 
শুক্রবার বিধাননগরের সেন্ট্রাল পার্কে এই হাটের উদ্বোধন করেন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প, বস্ত্র দপ্তর এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। ছিলেন বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, বস্ত্র শিল্প অধিকর্তা দেবাশিস ঘোষ, কাউন্সিলর, তন্তুজের অধিকর্তা তুলসী সিনহা রায়–‌সহ দপ্তরের পদস্থ কর্তারা। তাঁতের হাটের ভাবনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় প্রায় হারিয়ে যেতে বসা বাংলার তাঁত শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তন্তুজ, মঞ্জুশ্রী, বঙ্গশ্রী লোকসানে চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী নিজের উদ্যোগে সেই সব শিল্পকে আবার পথ দেখিয়েছেন। তাঁত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ৭ লক্ষ দুঃস্থ পরিবার জীবিকা পেয়েছে। শুধু তৈরি নয়, বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। শারদোৎসবকে মাথায় রেখে প্রতি বছরই তাঁতের হাট বসে। এই প্রথম বিধাননগর সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজন করা হয়েছে‌।’‌ এদিন কৃষ্ণা চক্রবর্তী শোনালেন, ‘‌হারিয়ে যাওয়া ‌বাংলার তাঁতকে স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে শাড়ির ডিজাইন এঁকে পাঠিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে বাংলার তাঁত শিল্পের এই ঘুরে দাঁড়ানোয় গর্বিত‌।’‌ 
রাজ্য সরকারের ‘‌তাঁতি সাথী’‌ প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, ১ লক্ষ তাঁতবিহীন শিল্পীর হাতে নতুন তাঁত তুলে দেওয়া হয়েছে। ৪৫ হাজার নতুন তাঁতিকে ১৩০টি ক্লাস্টার প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ৯৪ গুচ্ছ প্রকল্পে ৬৮০০ তাঁতিকে আনা হয়েছে। তঁাত শিল্পীদের কারিগরি দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই হাট চলবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবার ২৭০টি স্টল রয়েছে মেলায়।

উদ্বোধনের পর। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও কৃষ্ণা চক্রবর্তী। সেন্ট্রাল পার্কে। শুক্রবার। ছবি:‌ জয় সাধুখাঁ

জনপ্রিয়

Back To Top