আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ জলপাইগুড়ির ধলাবাড়িতে তখন ২০০ লোকের খাওয়ার ব্যবস্থা করছিলেন করিমুল হক। হঠাৎই এসে দাঁড়ালেন স্থানীয় দুই যুবক। তাঁদের মা মারা গেছেন ১৫ কিলোমিটার দূরে বোনের বাড়িতে। অ্যাজমা ছিল। লোকে সন্দেহ করছে কোভিড। তাই দেহ বাড়িতে আনতে চাইছে না কোনও অ্যাম্বুল্যান্স। 
এক মিনিটও দেরি করেননি করিমুল। সঙ্গে সঙ্গে নিজের বাইক নিয়ে চলে যান। বাইক লাগোয়া বিছানায় শুয়ে নিয়ে আসেন জ্ঞানেশ্বরী রাইয়ের দেহ। প্রথা মেনে মায়ের দেহ সৎকার করেন দুই ছেলে। ধন্যবাদ জানান করিমুলকে। বলেন, তিনি ছিলেন বলেই মায়ের শেষ ইচ্ছাপূরণ হয়েছে। 
করিমুলের কাছে এসব নতুন নয়। নিজের বাইকে রোগী চাপিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আকছাড় শহর, সদরে নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত ৫,৫০০ জন রোগীকে পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে। ২০১৭ সালে এজন্য পদ্মশ্রীও পেয়েছেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি ‘‌বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’‌। 
 ১৯৯৫ সালে এক রাতে করিমুলের মায়ের হার্ট অ্যাটাক হয়। অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি সেই প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। মারা যান মা। চায়ের বাগানে কাজ করতেন করিমুল। চার বছর পর আর এক সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ম্যানেজারের বাইক ধার করে তাঁকে হাসপাতাল পৌঁছে দেন করিমুল। ঠিক করেন, এবার থেকে এই কাজই করবেন। অন্য কারও বাইক বা সাইকেল, রিক্সায় চেপে কাজটা করছিলেন। ২০০৭ সালে ধারদেনা করে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কেনেন। দু’‌বছর পর ঋণ নিয়ে টিভিএস বাইক কেনেন। 
২০১৬ সালে বাজাজ তাঁকে একটি বিশেষ বাইক দেন। সেই বাইকের  সঙ্গে লাগানো রয়েছে বেড, যাতে শুয়ে হাসপাতালে যান রোগী। এখন বিভিন্ন অনুদানের সাহায্যে দু’‌টি চার চাকার অ্যাম্বুল্যান্স কিনেছেন করিমুল। এতে চাপতে হলে রোগীকে জ্বালানির খরচ দিলেই চলে। তবে করিমুলের বাইকে চেপে যাঁরা হাসপাতাল যান, তাঁদের এক টাকাও দিতে হয় না। 
এই করোনা আতঙ্কের মাঝেও কাজ থেমে নেই করিমুলের। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ তাঁকে ‘‌স্বাস্থ্য–দূত’‌ ঘোষণা করেছে। সিভিক পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে জায়গায় জায়গায় ঘুরে মানুষকে সচেতন করেন তিনি। অনুদান সংগ্রহ করে ২০০ পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন, তাঁদের মুখে রোজ ভাত জোগান। রান্না হয় করিমুলের বাড়িতেই। অন্তত ১০০০ জনকে রেশনও দিয়েছেন তিনি। 

জনপ্রিয়

Back To Top