স্বদেশ ভট্টাচার্য, বসিরহাট: বুলবুলের তাণ্ডব কাটিয়ে খেজুর রসের তোড়জোড় শুরু হয়েছে বসিরহাটে। বুলবুলের কোপে অনেক খেজুর গাছ উপড়ে গেছে। আবহায়ার কারণে খেজুর গাছ ঝোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি। চাষেরও দফারফা হয়েছে। ঘরবাড়িরও ক্ষতি হয়েছে বুলবুলের দাপটে। টানাপোড়েনে শিউলিদের মন খারাপ হওয়ারই কথা। তবে দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পর গ্রামজীবন এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বিশেষ করে সরকারি ত্রাণের ব্যবস্থা হওয়ায় দুর্যোগ পরবর্তী সঙ্কট থেকে কাটিয়ে কৃষকরা আবার মাঠে মাঠে কাজে লেগে গেছেন ফসল ফলাতে। তেমনি শিউলিরাও খেজুর রসের সন্ধানে নেমে পড়েছেন।
বসিরহাটের গাছা, আখারপুর, ইটিন্ডা, পানিতর, ধলতিথা, নলকোঁড়া, বঁাশঝাড়ি, হাসনাবাদের আমলানি, রোজিপুর, হাবাসপুর, ভবানীপুর, শুলকুনি, স্বরূপনগরের গোকুলপুর, হরিশপুর, তেঁতুলিয়া, বাংলানি, শঁাড়াপুল–সহ সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামগুলিতে পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে খেজুর গাছ ঝোড়ার কাজ। গাছা গ্রামের সুরত মোল্লা, আজিজুল দফাদার, ধলতিথার কেনা সরকার, রামপদ বিশ্বাস, হাসনাবাদের জিয়াদ মোল্লা, আতিয়ার ঢালিরা এখন সকাল–‌ সন্ধে ব্যস্ত। অন্যবারে কার্তিক মাসের শেষেই তঁারা খেজুর গাছে প্রথম দফার কাজ সেরে ফেলেন। কেন না জিরেন রস পেতে গেলে গাছের তদ্বির করতে হয় একটু আগে থেকেই। প্রথমে গাছের পুরনো পাতা ফেলে গাছের মাথা পরিষ্কার করতে হয়। তার পর দ্বিতীয় দফায় এরবার গাছ কেটে কয়কদিনে বিশ্রাম। তৃতীয় বারে বঁাশের কঞ্চি চিরে ‘‌নলি’‌ গেঁথে দেওয়া বিশেষ ভাবে কাটা অংশে। অগ্রহায়ণের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভঁাড় পাতা হয়। এতগুলে ধাপ পেরিয়ে তবেই কিনা মিলবে জিরেন রস। তাতে আসবে নলেন সুবাস। ঠান্ডা যত কড়া হবে, আকাশ যত ঝলমলে হবে, রস তত মিঠে হবে। এবারে একটু দেরি হলেও জিরেন রসে জ্বালিয়ে নলেন গুড় এসে গেল বলে।

খেজুর গাছ ঝোড়ার কাজ চলছে বসিরহাটে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top