মিল্টন সেন, হুগলি, ১৭ জুন- ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল আর দেড় মন দুধ দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলল জগন্নাথদেবের ৬২৩তম স্নানযাত্রা। সোমবার দুপুরে স্নানযাত্রা সম্পূর্ণ হয় মাহেশের জগন্নাথমন্দির সংলগ্ন স্নানপিঁড়ির মাঠের নাটমন্দিরে। প্রথা মেনে স্নানের গঙ্গাজল তুলে রাখা হয়েছিল ভাদ্র মাসের ষাঁড়াষাঁড়ি বানের সময়। সেই জলের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে স্নান করানো হয়। স্নানের পর তিন বিগ্রহকে নিয়ে যাওয়া হয় মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে। জগন্নাথমন্দিরের প্রধান সেবাইত সৌমেন অধিকারী জানিয়েছেন, প্রথমে নারায়ণ, তারপর সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। তারপর বলভদ্রদেব এবং একদম শেষে স্নান করানো হয় জগন্নাথদেবকে। ৪ জুলাই মাহেশের জগন্নাথমন্দির থেকে রথে চড়ে জগন্নাথ তাঁর মাসির বাড়ি যাবেন। মন্দির থেকে মাসির বাড়ি প্রায় দেড় কিমি রাস্তা রথ টেনে নিয়ে যাবেন হাজার হাজার ভক্ত।
কথিত, শ্রীরামপুরের মাহেশে এই রথের সূচনা করেছিলেন ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী। ৬২২ বছর আগে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করার ইচ্ছে নিয়ে তিনি পুরী গিয়েছিলেন। ভিড়ের কারণে তিনি জগন্নাথমন্দিরে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে আসেন। তারপর স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী গঙ্গায় ভেসে আসা নিমকাঠ থেকে তিনি তৈরি করিয়েছিলেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ। সেই বিগ্রহ আজও পুজো করা হয়। তখন রথ কাঠের ছিল। পরবর্তী সময় কলকাতার শ্যামবাজারের বসু পরিবারের উদ্যোগে মার্টিন অ্যান্ড বার্ন কোম্পানির তত্ত্বাবধানে ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় ৫০ ফুট লম্বা ৯টি চূড়াবিশিষ্ট রথ। চারতলা রথের প্রতি তলায় রয়েছে লোহার রেলিং। সামনের দিকে রয়েছে বিশাল আয়তন দুটি তামার ঘোড়া। ১২টি চাকাবিশিষ্ট এই রথের ওজন ১২৫ টন।

মাহেশে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। ছবি:‌ সৌগত রায়‌

জনপ্রিয়

Back To Top