আজকালের প্রতিবেদন: বাংলাকে ‘‌কাঙাল বাংলা’‌ বলে অমিত শাহর কটাক্ষে রাজ্য জুড়ে নিন্দার ঝড় উঠল। প্রতিবাদে সরব হলেন রাজ্যের বিশিষ্ট জনেরা। ‘‌কাঙাল’‌ বলে রাজ্যের সমস্ত মানুষকে তিনি বেনজির অপমান করেছেন, এমনই মনে করছেন তঁারা। মঙ্গলবার অমিত শাহ কলকাতায় রোড শোয়ে এসে বলেন, ‘‌বাংলার বিকাশ আটকে রয়েছে। সোনার বাংলাকে মমতা কাঙাল বাংলা বানিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হলে এই কাঙাল বাংলাকে সোনার বাংলা করা হবে।’‌ বিজেপি–‌র সর্বভারতীয় সম্পাদকের এই বক্তব্যে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে বিশিষ্ট মহলে। প্রত্যেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন, নিন্দা করেছেন। 
নবনীতা দেবসেন:‌ অমিত শাহর সব কথাই প্রতিবাদযোগ্য। এই কথায় বাংলার মানুষকে অপমানের পাশাপাশি তঁার নিজেরও মান কমেছে।
রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত‌:‌ এতে আর কী প্রতিক্রিয়া দেব!‌ ক্ষমতার লোভে এরা মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছে। মাথা যখন কাজ করে না, তখন অদ্ভুত এক অবস্থায় চলে যায় মানুষ। সে–‌রকমই ঘটছে। এগুলোতে আর রিঅ্যাক্ট করতেও ইচ্ছে করে না!‌
অরিন্দম শীল:‌ ‌মানুষ নিজে যা, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই সব বিচার করে। সাংস্কৃতিক ভাবে, জাতীয়তাবাদের বোধের জায়গা থেকে ওরা এতটাই নিঃস্ব যে এই ধরণের আক্রমণ শানাচ্ছে!‌ যারা নিজেরাই নিঃস্ব তাদের এরকম কদর্য ভাবে কিছু বলা সাজেনা!‌ 
পবিত্র সরকার:‌ ‌বাঙালির এই নিয়ে ভাবার বা চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচনী প্রচার–‌সভায় কোন্‌ নেতা বাংলা সম্পর্কে কী বললেন, তাতে কিছু যায়–‌আসে না। এতে আমরা, বাঙালিরা অপমানিত বোধ করব, এটা ভাবা মানে ছেলেমানুষি। ‌
চিরঞ্জিত চক্রবর্তী:‌ ‌বাংলাকে কাঙাল করেছিল বামফ্রন্ট। তারা রাজ্যের ২ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে। সেই সময় ২৪ হাজার কোটি টাকা রোজগার ছিল রাজ্যের, তার প্রায় পুরোটাই সুদ হিসেবে কেন্দ্রকে শোধ করতে হত। সেটাকেই কাঙাল হওয়া বলে। আর এখন আমরা যেখানে পৌঁছেছি, মমতা ব্যানার্জি রাজ্যের রোজগার ৬৬ হাজার কোটিতে পৌঁছে দিয়েছেন। তার থেকে সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪০ হাজার কোটি শোধ করতে হয়। তার মানে, আমরা মোটেই কাঙাল হইনি, আমরা নিজের পায়ে দঁাড়িয়ে গেছি।
মিরাতুন নাহার:‌ রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখতে সব রকম কৌশল নেওয়া হচ্ছে। কোনও ধরনের রাজনীতিই বাদ পড়ছে না। অশুভ রাজনীতির মহড়া চলছে। বাংলার সংস্কৃতিকে আঘাত করার চেষ্টা। এই উদ্দেশ্য সফল হবে না। 
পিকে ব্যানার্জি:‌ রাজনীতি করি না, বুঝি না। কিন্তু এই বক্তব্যটা ভুল। বাংলা বা বাঙালির জন্য মমতা ব্যানার্জি অনেক কিছু করেছেন।
চুনী গোস্বামী:‌ এই সব বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কোনও মানে হয় না। বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গরিমা চিরকাল যা ছিল, তা–‌ই থাকবে। কে কী বললেন তাতে কিছু যায়–‌আসে না।কিছুই জানেন না। না জেনে ভোটের বাজারে এ–‌রকম মন্তব্য করে দেওয়া, সেটাও বাংলায় দঁাড়িয়ে, শুধু ভুল নয়, অন্যায়। সবার উচিত এর প্রতিবাদ করা। ‌
জ্যোতির্ময়ী শিকদার:‌ বাংলা সম্পর্কে অমিত শাহ কিছুই জানেন না। বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলো— কোনও ব্যাপারেই ওঁর কোনও ধারণা নেই। আসলে ওঁদের কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য নেই বলেই এমন উল্টোপাল্টা বলছেন। ‌‌
সম্বরণ ব্যানার্জি:‌ জানি না উনি কোন্‌ দিক দিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমার মনে হয়, অমিত শাহ বাংলার সভ্যতা, কৃষ্টি–‌সংস্কৃতি এ–‌সব কিছুই জানেন না। বাংলার ইতিহাস জানলে তিনি নিশ্চয়ই জানতেন, ভারতের বহু রাজ্যের থেকে বাংলা অনেক ধনী শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতায়।
‌জয়দীপ কর্মকার:‌ মাঠের শত্রুতা আমরা খেলোয়াড়েরা মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখি। বাইরে বিপক্ষকে সম্মান করি। কিন্তু এখনকার রাজনীতিতে পরস্পরের প্রতি আক্রমণের কদর্য রূপটা ক্রমশ ফুটে উঠছে। আমি রাজনীতি নিয়ে বেশি কথা বলি না। কিন্তু যা হচ্ছে, সেটা সভ্য সমাজের জন্য ভাল হচ্ছে না।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top