মলয় সিন্‌হা: ছোটবেলা থেকেই পাহাড়, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ভালবাসেন তিনি। মেয়ের এই ভালবাসায় সায় ছিল না মা–বাবার।  প্রাণ বাজি রেখে পর্বতারোহণ, রক ক্লাইম্বিং বা ট্রেকিং–এ অংশ নেবে মেয়ে,  ঘোর আপত্তি ছিল তাঁদের। তখন ভ্রমণের বই, অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের ওপর লেখা পড়েই রোমাঞ্চকর অভিযানের স্বপ্ন মেটাতেন মেয়েটি। কিন্তু জেদ ছাড়েননি। বাবা–মাকে বোঝাতেও কসুর করেননি। শেষে নিজের জেদে ২০১৫ সালে মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ কৃষ্ণনগরের (‌ম্যাক)‌ সঙ্গে যুক্ত হন। সেই শুরু। পাঁচ বছর ধরে ম্যাক ও বিশিষ্ট পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায়ের তত্ত্বাবধানে নিজেকে তৈরি করেন রানাঘাটের নাসরা কলোনির বাসিন্দা রুম্পা দাস।  তারপর শুরু হয় পর্বতাভিযানের পালা। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা রুম্পা দাসের লক্ষ্য পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট জয়। লক্ষ্য পূরণে আগামী ৭ এপ্রিল এভারেস্ট অভিযান করতে চলেছেন বাংলার এই পর্বতারোহী। প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। 
রানাঘাটের কুপার্স কলোনি হাই স্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা রুম্পা দাস বলেন, ‘‌২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যাকে রক ক্লাইম্বিং কোর্সের জন্য ভর্তি হই। একই বছরে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে পর্বতারোহণের বেসিক কোর্স করি। ‌এরপর ম্যাকের উদ্যোগে বছরে চার থেকে ছয়টি ট্রেকিং, রক ক্লাইম্বিং এবং পর্বতাভিযানে যাই। পাঁচ বছরে অনেক অভিযান করেছি। এ সময় আলাপ হয় বসন্ত সিংহরায় (‌স্যর)‌–এর সঙ্গে। তাঁর গাইডে আমি তৈরি হয়েছি। বসন্ত স্যরই আমার এভারেস্ট জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার সাহস জুগিয়েছেন।’‌ তিনি আরও জানান,‘ এভারেস্ট অভিযানের প্রস্তুতির জন্য প্রত্যেকদিন দেড় ঘণ্টা মাঠে দৌড়, মেডিটেশন, রোপ ট্রেনিং–সহ জিমে ব্যায়াম করতে হচ্ছে। ‌আর বন্ধুর মত পাশে আছেন স্বামী সুমন বসু।’‌ কী কী অভিযানে সফল হয়েছেন?‌ রুম্পার কথায়, ‘‌২০১৫ সালে স্টক কাংড়ি (‌৬১৫৩ মিটার)‌, ২০১৭ সালে মাউন্ট ব্ল্যাক পিক (‌৬৩৮৭ মিটার)‌, ২০১৯ সালে মাউন্ট ডেভাচেন (‌৬২৬৫ মিটার)‌। এছাড়াও ম্যাকের উদ্যোগে বসন্ত স্যরের নেতৃত্বে অনেক অভিযান করেছি। ২০১৮ সালে সাসের কাংড়ি অভিযানে পেম্বা শেরপার দুর্ঘটনা ঘটে। ওই অভিযানে আমিও সদস্য ছিলাম।’‌ তাছাড়া ২০১৯ সালে নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং–এ অ্যাডভান্স পর্বতারোহণের কোর্স করেছেন। 
রুম্পার এভারেস্ট অভিযান নিয়ে বসন্ত সিংহরায় জানালেন, ‘‌আজ থেকে ছয় বছর আগে ছন্দা গায়েনের মধ্যে প্রথম দেখেছিলাম দুর্গমকে জয় করার ইচ্ছাশক্তি। রুম্পার মধ্যেও সেই ছায়া দেখছি। সব ঠিকঠাকভাবে করলে সামনে ওঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ‌রুম্পা আমার যোগ্য ছাত্রী। শেষ মুহূর্তে কিছু টেকনিক্যাল পরামর্শ দিয়ে দেব।’‌ মাউন্টেনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ কৃষ্ণনগরের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ড:‌ প্রমথেশ দাস মহাপাত্র জানালেন, ‘‌মানসিক ও শারীরিক দক্ষতার পরিচয় আগের অভিযানগুলিতেও দিয়েছে রুম্পা। ওঁর মধ্যে ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এভারেস্ট অভিযান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এই অভিযানে ম্যাকের সব সদস্য ওঁর পাশে আছে।’‌‌‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top