Indian Tea: আমেরিকা, ইউরোপ, কোরিয়ার বাজার ধরতে চায় ভারতীয় চা

অম্লানজ্যোতি ঘোষ, আলিপুরদুয়ার:‌ আমেরিকা, কানাডা–সহ পশ্চিম ই‌‌উরোপের সবকটি দেশ, এমনকী দক্ষিণ কোরিয়াতেও ভারতীয় চা রপ্তানির উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতীয় চা পর্ষদ।

শুধু তাই নয়, প্রাথমিকভাবে চা পর্ষদের লক্ষ্য, ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন কেজি চা পাতা রপ্তানি করা। পাশাপাশি ভারতে গড়পড়তা একজন মানুষ ৭৫০ গ্রাম চা খেয়ে থাকেন। যা যথেষ্টই কম। ৭৫০ গ্রামকে বাড়িয়ে ১ কেজিতে তুলে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। সব মিলিয়ে দেশীয় বাজারে ভারতীয় চায়ের বিক্রি বাড়াতে চা পর্ষদ ‘‌ভিশন ডকুমেন্ট ২০৩০’‌ সামনে আনতে চলেছে। আন্তর্জাতিক চা–দিবসে কলকাতায় আয়োজিত এক ভার্চুয়াল–সভায় এমনই কিছু ভাবনা সামনে রেখেছেন টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৌরভ পাহাড়ি। আর চেয়ারম্যানের নতুন ভাবনায় খুশি চা–মহলও। 
কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গের মালবাজারের চালসাতে চা মালিকদের সংগঠন টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সভায় উপস্থিত ছিলেন টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। গোটা দেশের নিরিখে উত্তরবঙ্গে চায়ের রপ্তানি মাত্র ১ শতাংশ, এমন তথ্য উঠে এসেছিল ওই সভায়। টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য শুনে সেদিন হতাশ হয়েছিলেন অনেকেই। তবে এবার টি বোর্ডের লক্ষ্য, বিদেশের বাজার ধরা, বর্তমান জটিলতায় বিশ্ব বাজারে শ্রীলঙ্কার চায়ের যে বাজার নষ্ট হয়েছে, যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করা। এও জানা গেছে, খুব শিগগির সংসদে নতুন চা–আইনের খসড়া প্রস্তাবও রাখা হবে। ২০২১ সালে প্রায় ১৯৫.৫ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছিল। যা ২০১৯ সালের রেকর্ড করা ২৫২.২ মিলিয়ন কেজি থেকে অনেকটাই কম। ২০২২ সালে লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে ২৪০ মিলিয়ন কেজি। এদিকে, রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিলেও, আপাতত টি বোর্ডের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক বাজারে মাল পরিবহণ করা। শিপিং সমস্যাও রয়েছে। যদি এগুলো সহজ করা যায়, তবে চায়ের বড় বাজার খুঁজে পেতে সমস্যা হবে না ভারতীয় চা–কে।
টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান চিন্ময় ধর বলেন, ‘‌টি বোর্ডের নতুন ভাবনাকে স্বাগত। আমরা যথেষ্টই আশাবাদী নতুন দিশা পাবে চা রপ্তানি।’‌ চা বিশেষজ্ঞ রাম অবতার শর্মা বলেন, ‘‌বোর্ডের দৃষ্টিভঙ্গি একবার বাস্তবায়িত হলে চা–শিল্পের রপ্তানির উন্নয়ন ঘটবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। চা–শিল্পের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং মাথা পিছু অভ্যন্তরীণ চায়ের ব্যবহার বৃদ্ধি, উভয়ের জন্য টি বোর্ডের সাহায্য প্রয়োজন। এটা বরাবরই বলা হয়েছে। চা বিক্রি লাভজনক হলে মালিক–শ্রমিক উভয়ের মুখে হাসি ফুটবে।’‌ 

আরও পড়ুন:‌ রাজ্যপালের জরুরি তলব শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিবকে, কেন?‌ 
 


 

আকর্ষণীয় খবর