প্রভাত সরকার,ফরাক্কা: অবিভক্ত বাংলার বিখ্যাত কবিয়াল গুমানি দেওয়ানের গ্রাম সাগরদিঘির জিনদিঘিতে ছিল না তঁার কোনও স্মৃতি। কবিয়ালকে ভুলতে বসেছিল বর্তমান প্রজন্ম। কবিয়ালের স্মৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবার এগিয়ে এলেন গ্রামের বাসিন্দারা। একটি স্কুলের দেওয়া জমিতে চঁাদা তুলে তঁারা গড়ে তুললেন একটি মুক্তমঞ্চ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘‌কবিয়াল গুমানি দেওয়ান মুক্তমঞ্চ’‌।
প্রসঙ্গত, সাগরদিঘির এই জিনদিঘি গ্রামেই গুমানি দেওয়ানের জন্ম, বেড়ে ওঠা, খ্যাতি —সব কিছুই। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৮১ বছর বয়সে তঁার মৃত্যুও হয় এই গ্রামেই। মাত্র দশ বছর বয়সে গুমানি দেওয়ানের কবিয়াল হিসেবে পথ চলা শুরু। তার পর শুধুই উত্থান আর উত্থান। কবিয়ালের স্মৃতি ধরে রাখতে বাম আমলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জিনদিঘিতে তঁার নামে কবিয়ালদের একটি চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেজন্য করা হয়েছিল শিল্যানাসও। তার পর আর কাজ এগোয়নি। তাই অভিমান করেই সরকারের মুখাপেক্ষী না থেকে গ্রামবাসীরাই গড়ে তুললেন তঁার নামে মুক্তমঞ্চ। কবিয়ালের সব সঙ্গীর মৃত্যু হয়েছে। শুধু বেঁচে রয়েছেন অনিল মাল নামে এক সঙ্গী। তিনি বললেন, ‘‌অবিভক্ত বাংলার এমন কোনও গ্রাম ছিল না, যেখানে তিনি পালা গান গাইতে যাননি। মুসলিম হয়েও তিনি হিন্দু–মুসলমানের পালা গান গাইতেন। ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেনি মৌলবাদীরা। তাদের রোষে পড়তে হয়েছিল তঁাকে। উত্তর দিনাজপুরে পালা গান গাইতে গিয়ে ঘোড়ার গাড়ি থেকে তিনি পড়ে যান। বাম পায়ে চোট পান। তার পর থেকে সেই পা আর ঠিক হয়নি। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না। তাই তিনি সেই পা টেবিলের ওপর তুলে পালাগান গাইতেন।’‌
গুমানি দেওয়ানের একমাত্র ছেলে অনেক দিন আগেই মারা গেছেন। বেঁচে রয়েছেন মেয়ে লতা দেওয়ান। বয়স চুরাশি। তিনি বললেন, ‘‌বর্তমানে জিনদিঘি গ্রামে আর কোনও কবিয়াল নেই। আমার একমাত্র ছেলে শুকুল পালা গান গাইতে গিয়েছিল। কিন্তু বাবা বাধা দিয়েছিল। তার পর থেকে ছেলে আর পালা গান গাইত না।’‌

কবিয়াল গুমানি দেওয়ান মুক্তমঞ্চ।

জনপ্রিয়

Back To Top