নিরুপ‌ম সাহা, ঠাকুরনগর, ১১ ফেব্রুয়ারি- বড়মার নাম করে, তঁার সই জাল করে মমতা ব্যানার্জির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। সোমবার এই অভিযোগ তুলে এই ঘটনার তদন্তের দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ, সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। 
তৃণমূল–সহ বিরোধীদের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল উপস্থাপন করে তা পাশ করিয়ে নিয়েছে। এখন রাজ্যসভায় তা পাশ করার চেষ্টা কছে। ফলে নতুন করে তার বিরোধিতা করছে সংসদের বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের (‌মঞ্জুলপন্থী)‌ সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর দাবি করেছেন, এই নাগরিকত্ব বিল সংসদের উভয়কক্ষে পাশ হয়ে গেলে মতুয়াদের মতো উদ্বাস্তু মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হবে। মতুয়ারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। এই বক্তব্যকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই মতুয়াদের একাংশের ডাকে ঠাকুরনগর ঘুরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ইস্যুকে সামনে রেখে মতুয়া ভোট নিজেদের পক্ষে পেতে চাইছে বিজেপি। শান্তনু ঠাকুররা এই বিলের পক্ষে সায় দিলেও এই বিলের চরম বিরোধিতা করছেন মমতাবালা ঠাকুর তথা তৃণমূল সাংসদরা। মমতাবালা ঠাকুরের বক্তব্য, ‘এর আগেও বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকাকালীন নাগরিকত্ব বিল আনার চেষ্টা করে। কিন্তু সেই বিল ছিল জটিলতায় ভরা। সেই বিলকেই নতুন করে আবার পাশ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই বিলের জটিলতা কাটিয়ে আরও সরলীকরণ করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেন্দ্র সরকার এ ব্যাপারে অনড়। তবে তারা যত এ ব্যাপারে অনড় থাকবে, আমরা আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার করব।’ ইতিমধ্যেই এই বিলের বিরোধিতা করে সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে একটি লিফলেট ছাপিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের‌ মানুষকে সচেতন করতে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই লিফলেটে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব নিয়ে মতুয়া এবং সমগ্র বাঙালি উদ্বাস্তু সমাজের সঙ্গে ধোঁকাবাজি এবং বিশ্বাসঘাতকতা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার।
সোমবার ঠাকুরবাড়িতে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে শান্তনু ঠাকুর একটি টাইপ করা চিঠি দেখান। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর উদ্দেশ্যে লেখা সেই চিঠি বড়মা বীণাপাণি ঠাকুরের বয়ানে লেখা। নিচে তঁার নামে একটি স্বাক্ষরও রয়েছে। সেই চিঠিতে লেখা রয়েছে, আগামী দুই–এক দিনের মধ্যে সংসদের রাজ্যসভায় ভারতীয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। মতুয়াদের দীর্ঘদিনের দাবি উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব এবং পুর্নবাসন। লোকসভার পর রাজ্যসভায়ও এই বিল পাশ হয়ে গেলে পূর্ববঙ্গের উদ্বাস্তুরা তথা মতুয়ারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন। পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাই মতুয়াদের স্বার্থে তৃণমূল সাংসদরা এই বিল সমর্থন করুক। অন্যথায় মতুয়ারা আর তৃণমূলকে সমর্থন করবে না। 
এই প্রসঙ্গে মমতাবালা ঠাকুর বলেন, ‘বড়মা এখন বয়সের ভারে শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। তাই তঁার পক্ষে এমন চিঠি লেখা বা কোনও চিঠিতে স্বাক্ষর করা একেবারেই অসম্ভর। তাই আমাদের মনে হচ্ছে, বড়মার স্বাক্ষর জাল করে বড়মার নামে মিথ্যা চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হচ্ছে। বিষয়টি একপ্রকার জালিয়াতি বলে উল্লেখ করে তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।’

মমতাবালা ঠাকুর। ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top