চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইলামবাজার, ১০ জুলাই

গ্রামে গ্রামে কোয়ারেন্টিন সেন্টার করা নিয়ে সঙ্ঘর্ষ–বিবাদ মিটিয়ে গ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ইলামবাজার থানার পুলিশ। বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার শ্যাম সিং–এর দেখানো পথ ধরে শুধু ইলামবাজার নয়, সব থানাতেই এসেছে সাফল্য। তবে ইলামবাজার থানাকে অন্য জেলার, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে। ইলামবাজার থানার ওসি দেবব্রত সিনহা রাতদিন এক করে সহকর্মীদের নিয়ে প্রায় ২ লাখ পরিযায়ী শ্রমিককে তাঁদের বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। 
জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং জানিয়েছেন, ‌ইলামবাজার দিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক এই জেলায় ঢুকেছেন। তঁাদের নাম ঠিকানা–সহ সমস্ত তথ্যপঞ্জি তৈরি করতে হয়েছে। পাশাপাশি, নথিভুক্ত করতে হয়েছে তাঁদের শারীরিক অবস্থার তথ্য। অতি সংক্রমিত ৫টি রাজ্য— তামিলনাড়ু, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে, বাকি রাজ্যগুলো থেকে আসা শ্রমিকদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন তঁাদের স্কুল বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করে। খাবারের ব্যবস্থাও করেছিলেন তাঁরা। যে গ্রামের লোকেরা এক সময় কোয়ারেন্টিন সেন্টার গড়া নিয়ে ঝামেলা করেছিলেন, তাঁরাই এখন শ্রমিকদের সুবিধা–‌অসুবিধা সবকিছুই দেখছেন। 
ইলামবাজার থানা এলাকার ৫০টি স্কুলে খোলা হয় কোয়ারেন্টিন সেন্টার। মোট ১২০০ জন ইলামবাজারের পরিযায়ী শ্রমিক এই সেন্টারগুলোতে ছিলেন। এখন মাত্র ১২ জন আছেন। মাতৃবিয়োগের পরেও থানার বড়বাবু তাঁদের খোঁজখবর রেখেছেন। প্রথম দিকে খাবারের মান নিয়ে নানা অভিযোগে বিরোধীরা কোয়ারেন্টিনের আবাসিকদের দিয়ে বিক্ষোভ করাবার চেষ্টা করলেও তঁারা দু–এক দিনের মধ্যেই বুঝেছেন এর চেয়ে ভাল ব্যবস্থা কোনও সরকারের পক্ষে করা সম্ভব নয়। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে কাটানোর পর তাঁরা ফিরেছেন নিজের বাড়িতে। পঞ্চায়েত থেকেই মিলছে ১০০ দিনের কাজ।
মানসিকভাবে ভেঙে পড়া পরিযায়ী শ্রমিকরা এখন হাসছেন ইলামবাজারে।‌

ইলামবাজারের একটি স্কুলে কোয়ারেন্টিন সেন্টার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top