সোহম সেনগুপ্ত: চোরেরা চুরি করে যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। ডাকাতরা ডাকাতি করে যাচ্ছেন বিজেপিতে। দাঙ্গাবাজরাও দাঙ্গা করে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।পচা পদ্মের এমন জাদু, যোগ দিলে চোরেরাও সাধু। বৃহস্পতিবার বারাসতের শতদল মাঠে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সমর্থনে এক জনসভায় একথা বলেন সর্বভারতীয় যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। তিনি বলেন, আগামী একশো বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না বিজেপি। সেটা বুঝতে পেরেই বিজেপি নেতারা এখন ধর্মের নামে ভোট ভিক্ষা করছেন। তিনি বলেন, যে ১৮টি লোকসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হয়েছে সেই ১৮টিতেই জিতবে তৃণমূল। গত পাঁচ বছরে মোদি সরকারের আমলে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। কেরোসিন তেল, রেলের প্ল্যাটফর্মের টিকিট, জীবনদায়ী ওষুধ, পেট্রল, আটার দামও বহুগুণ বেড়েছে। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কন্যাশ্রী, যুবশ্রী–‌সহ একের পর এক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়িত করেছেন বাংলায়। তিনি বলেন, সারদার অন্যতম অভিযুক্তদের দেখা যাচ্ছে মোদির আশেপাশেই। তিনি বলেন, যদি ক্ষমতা থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। সারদা চিট ফান্ডের কর্ণধার সুদীপ্ত সেনকে তৃণমূল সরকারই জেলে ঢুকিয়েছে বলেও এদিন বলেন অভিষেক। এদিন তিনি বলেন, মোদি এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছ থেকে জবাব চাইছেন। এটা তো লোকসভা ভোট। মোদি এই পাঁচ বছরে কী করেছেন তার জবাব ওনাকেই দিতে হবে বলেও জানান অভিষেক। এদিন তিনি বলেন, মোদির বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। বিজেপির নৌকো যে ফুটো হয়ে গেছে তা সব সমীক্ষাতেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় করে দিল্লিতে পার্টি অফিস তৈরি করেছে বিজেপি। দু’‌লক্ষ স্কোয়ার ফুট পার্টি অফিসের টাকা কোথা থেকে এল তার জবাব দিতে হবে বিজেপিকেই। সেনার নামে ভোট করার চেষ্টা করেছে মোদি। তাই আজ কৃষক, সেনা, খেটে খাওয়া মানুষ সবাই মোদির বিরুদ্ধে লড়তে চাইছেন। তিনি বলেন, লোকসভা ভোটেই লড়তে ভয় পাচ্ছেন মোদি। তাই প্রভাব খাটিয়ে তেজ বাহাদুরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অভিষেক বলেন, মোদির মনোনয়নপত্রের তথ্যে অসঙ্গতি আছে। তিনি বলেন, নিজের জীবন সঙ্গিনীর আয় ব্যয়ের হিসাব মোদি কেন দেননি। অভিষেক বলেন, গত নয় বছরে রাজ্যে মাওবাদী হানায় কারও মৃত্যু হয়নি। কারণ, দক্ষ প্রশাসক হলেন মমতা ব্যানার্জি। তাই তিনি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হলে অন্য রাজ্যেও আর মাওবাদী হামলা ঘটবে না বলেও জানান অভিষেক। অভিষেক বলেন, রাজ্য  বিধানসভায় বাংলার নাম অনুমোদন করে কেন্দ্রে পাঠানো হলেও গড়িমসি করছে কেন্দ্র। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ও জেলা পরিষদের দলনেতা নারায়ণ গোস্বামী, জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি কৃষ্ণগোপাল ব্যানার্জি, বিধায়ক রথীন ঘোষ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, বারাসত পুরসভার পুরপ্রধান সুনীল মুখার্জি, উপ পুরপ্রধান অশনি মুখার্জি–‌সহ তৃণমূল নেতারা।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top