প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়- গ্যাস লিক করে হাওড়ায় অসুস্থ শতাধিক। সোমবার সকাল থেকে ঘুসুড়ির গিরিশ ঘোষ রোডের বজরঙবলি এলাকার এই ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে যায়। প্রায় ২ বর্গকিমি এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। 
গ্যাস লিকের খবর পেয়ে দমকলের দু‌টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। দমকলকর্মীরা গ্যাস লিকের উৎস খুঁজতে তল্লাশি শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ পরে জানা যায় স্থানীয় একটি গোডাউন থেকে ঝাঁঝালো গন্ধের ওই গ্যাস বেরোচ্ছে। সেই গ্যাসের গন্ধে ততক্ষণে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। 
জানা গেছে, ওই গুদামে লোহার সামগ্রী কাটাই করে লোহার ছাঁট বা স্ক্র্যাপ বের করা হত। সেরকমই এদিন একটি প্রায় ৬ ফুটের গ্যাস সিলিন্ডার কাটাই করা হচ্ছিল। কিন্তু সিলিন্ডারটি কাটাই শুরু করতেই তীব্র ঝাঁজালো গন্ধের ওই গ্যাস বের হতে থাকে। এতে ওই গুদামে তখন যাঁরা কাজ করছিলেন তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারাও অসুস্থ হতে শুরু করেন। মাথা ঘোরানোর সঙ্গে বমি, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং গা হাত–পা জ্বালা করতে শুরু করে এলাকাবাসীর। নিমেষেই তীব্র কটু গন্ধের এই গ্যাস লাগোয়া সমস্ত এলাকায় ছড়িয়ে যায়। অসুস্থের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বাড়িতে থাকা খাবারদাবারও তেতো হতে শুরু করে। ফেলে দিতে হয় সমস্ত খাবার। 
এরই মধ্যে দমকলকর্মীরা ওই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস বেরোনোর জায়গাটা সিল করে দিতে চেষ্টা করেন। বাসিন্দারা জানান, ঠিকমতো সিল না হওয়ায় গ্যাস বের হতেই থাকে। তখন দমকলকর্মীরা জেসিপি মেশিনে তুলে ওই সিলিন্ডারটিকে বেলুড়ের লালাবাবু সায়র রোডের জগন্নাথঘাটে নিয়ে গিয়ে গঙ্গায় ফেলে দেন। আর তারপরও ওই গ্যাসের তীব্রতায় গঙ্গার জল পুরো হলুদ হয়ে যায়। ঘাট লাগোয়া সমস্ত কচুরিপানাও হলুদ হয়ে যায়। ফুটতে শুরু করে দেয় জল। সেই সঙ্গে ওই কটু গন্ধে ভরে যায় পুরো এলাকা। ঘাটে থাকা লোকজন হুড়মুড়িয়ে উঠতে গিয়ে অনেকে জখম হন। আরও বহু মানুষ নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করেন।  
সবমিলিয়ে প্রায় শতাধিক মানুষ এদিন গ্যাসের ঝাঁজে অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমে। এঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই গোডাউনেই ফেলে রাখা হয়েছে এরকম আরও ৪টি সিলিন্ডার। এলাকায় পাঠানো হয়েছে মেডিক্যাল টিম। দমকলের এক কর্তা জানান সম্ভবত ওটা ক্লোরিন জাতীয় গ্যাস। যা এলাকায় ছড়িয়ে যাওয়ায় মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পুলিসের তরফে ওই গোডাউনটা সিল করে দেওয়া হয়েছে। মালিকের খোঁজ চলছে। কারখানাটির বৈধ অনুমোদন ছিল কিনা, দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। পুলিস ঘটনার তদন্ত করছে। সবারই যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হতে প্রশাসনের তরফে আবেদন করা হয়েছে।        

গঙ্গায় ফেলে দেওয়ার পরেও সিলিন্ডার থেকে বেরচ্ছে গ্যাস।ছবি: কৌশিক কোলে‌

জনপ্রিয়

Back To Top