‌যজ্ঞেশ্বর জানা, কাঁথি: মহামারী আবহে রক্ত দিয়ে মুসলিম বধূর জীবনদান করে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের পুরোহিত পরিবারের ছেলে। কাঁথির দারুয়ার বধূ মাসুমা খাতুনের (৩০) রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুবই কম। তার ওপর অসুস্থতার কারণে তা অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছিল। মাসুমা হাসপাতালে উঠে বসতে পারতেন না। দুর্বল শরীর। রক্ত না দিলে পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা। জরায়ুতে জটিল রোগ। অস্ত্রপচার দরকার। তার আগে প্রয়োজন ‘‌বি’‌ পজিটিভ রক্ত। খুবই সহজলভ্য গ্রুপ। কিন্তু করোনা–আতঙ্কে শিবির বন্ধ থাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রক্তসঙ্কট। রক্তের ভাঁড়ার শূন্য থাকায় কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয় মাসুমার পরিবারকে। বেসরকারি ব্লাডব্যাঙ্কগুলোর ভাঁড়ারও শূন্য। ডোনার জোগাড় করতেও পারেনি পরিবার। মাসুমার রক্ত কীভাবে জোগাড় হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান পরিবারের লোকেরা। শেষ পর্যন্ত পূর্ব পরিচিত কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের পশ্চিম কুশবনির ব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে রমেশ কর মহাপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মাসুমার মাসতুতো দাদা তেহেরান হোসেন। তেহেরান বলেন, ‌রক্তদাতারা কেউ হাসপাতালে এসে রক্ত দিতে চাননি। ওই বিপদের সময়ে মনে আসে রমেশের কথা। ডোনার খুঁজতে গিয়ে রমেশের রক্তের গ্ৰুপ বি পজিটিভ মাথায় আসে। ফোন পেয়েই ভগবানের মতো উপস্থিত হয়ে যান তিনি। বেসরকারি সংস্থার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রমেশ শনিবার দুপুরে অফিসেই ছিলেন। ফোন পেয়ে সেখান থেকেই বাইকে পৌঁছে যান হাসপাতালে। রমেশ বলেন, ‘‌মানবতাই সব চেয়ে বড় ধর্ম। ধর্ম ভঙ্গে যদি কারও প্রাণ বাঁচে, তো সেটাই করা উচিত। আমি সেটাই করেছি। সবাইকে বলে রাখি, কারও ‘বি’ পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন হলে আমায় খবর দিতে।’‌ মঙ্গলবার কাঁথির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মাসুমার রক্ত সঙ্কট দূর করে অস্ত্রপচার করেন চিকিৎসকরা।

জনপ্রিয়

Back To Top