আজকালের প্রতিবেদন- ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট, সংক্রামক ব্যাধির থেকেও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশি মৃত্যু ঘটছে। হার্ট অ্যাটাকের আগাম উপসর্গ হয় না। তাই অনেকেরই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সময় প্রথমবার বুকে ব্যথা অনুভব করেন। অর্ধেক মানুষের মৃত্যু হয় প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই। তাই হার্ট অ্যাটাক হলে দ্রুত নির্ণয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা করা উচিত। এই কারণে ‘‌বিশ্ব হৃদয় দিবস’‌ উপলক্ষে বি এম বিড়লা হাসপাতাল হাতেকলমে বেসিক লাইফ সাপোর্ট (‌বিএলএস)‌–এর প্রশিক্ষণ দিতে ‘‌হ্যান্ডস অফ হোপ’‌ প্রচার শুরু করেছে। সকলকে বিএলএস সম্পর্কে শিক্ষিত করতে একমাসব্যাপী রোগী সহায়ক (রোগীকে যাঁরা দেখভাল করেন)‌ এবং নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেবে হাসপাতাল। সি কে বিড়লা হাসপাতালের চিফ অপারেটিং অফিসার ডাঃ সিমারদীপ গিল বলেন, ‘‌হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশিরভাগ লোক হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই মারা যান। দু’‌মিনিটের মধ্যে বিএলএস দিলে রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা বাড়ে। আমাদের উদ্দেশ্য কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে গোল্ডেন আওয়ার মুহূর্ত মোকাবিলা করা।’‌
সপ্তাহে দু’‌দিন হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে চলবে এই প্রশিক্ষণ। বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ অনিল মিশ্র এবং ডাঃ অঞ্জন সিওটিয়া বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা আনতে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তৈরি করেছেন। রোগী সহায়ক ছাড়াও কলকাতা পুলিশ, কর্পোরেটের শীর্ষকর্তা, নন মেডিক্যাল কর্মী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষদের কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশনের (‌সিপিআর)‌ পদ্ধতিগুলি শেখানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হবে শংসাপত্র। 
ডাঃ সিওটিয়া বলেন, ‘আশা রাখছি সমস্ত স্তরের অংশগ্রহণকারীরা নিশ্চিত করবেন তাঁরা ভাল, স্বাস্থ্যকর হৃদয় নিয়ে জীবনযাপন করতে ইচ্ছুক। অন্যদের ধূমপানে নিষেধ করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।’‌ ডাঃ মিশ্র বলেন, ‘‌হৃদ্‌রোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হার্ট ফেলিওরের আশঙ্কাও বাড়ছে। দুঃখের বিষয়, জ্ঞান এবং সচেতনতার অভাবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে অনেকেই তাঁর পরিবারের সদস্য, বন্ধুদের সহায়তা করতে অক্ষম হন। ঠিকমতো বিএলএস দেওয়ার দক্ষতা থাকলে প্রয়োজনের সময় জীবন বাঁচানো যায়।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top