রুপম সাহা,‌বনগাঁ:  মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে নতুন করে বঁাচার আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন রাজ্যের প্রাচীন শিল্প পটচিত্র। পরিবর্তনের নতুন সরকারের সহযোগিতায় রাজ্যে এখন বিভিন্ন জায়গায় হস্তশিল্প মেলার আয়োজন হচ্ছে। আর সেখানেই এই শিল্পীরা তঁাদের শিল্প সম্ভার নিয়ে হাজির হচ্ছেন। সেখানে তঁাদের শিল্পকর্ম বিক্রি করে অর্থের মুখ দেখছেন। মিলছে সম্মানও। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এই শিল্পীরা। 
পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা, ডেবরা, ঘাটাল–সহ এই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছেন পটচিত্রীরা। তঁাদের অনেকেরই সেই অর্থে এই শিল্পের কোনও বিশেষ প্রশিক্ষণ, পুঁথিগত শিক্ষা নেই। বংশ পরম্পরায় নিজেদের উদ্যোগেই বাড়ির বড়দের দেখে দেখে নিজেদের শিল্পসত্তাকে জাগিয়ে তোলেন তঁারা। তঁাদের শিল্প সৃষ্টির মূল উপকরণ হল ফেব্রিক। সেই ফেব্রিককে তুলির টানে কখনও গেঞ্জি, শাড়ি, ছাতা, কেটলি, টেবিল ল্যাম্প, আবার কখনও পাঞ্জাবির ওপরে নানান কারুকাজ ফুটিয়ে তোলেন এই শিল্পীরা। মনের মাধুরী মিশিয়ে অনায়াসেই ফুটে ওঠে নানান পটচিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই তঁারা এই শিল্পের আর্থিক মূল্য পান না। বাম আমলে হাতেগোনা কিছু জায়গায় মেলা হলেও সারা বছরের রোজগার সেখান থেকে উঠে আসা একেবারেই সম্ভব হত না। তাই একটু একটু করে ধুঁকতে বসেছিল এই শিল্প। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অনুপ্রেরণায় কলকাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলা সদরে এখন হস্তশিল্প মেলার আয়োজন হচ্ছে। শুধু জেলা সদরেই নয়, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এখন এই মেলা মহকুমা শহরেও এই ধরনের মেলার আয়োজন হচ্ছে।
যদিও শিল্পীদের অভিজ্ঞতা, কলকাতা এবং জেলা সদরে যেভাবে তঁাদের শিল্প সম্ভার বিক্রি হয়, সেদিক থেকে বিচার করলে মহকুমা শহরে তুলনায় কমই হয়। তবে শিল্পীদের আশা, একদিন এই অবস্থার বদল হবে। তখন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও তঁাদের শিল্পের মর্যাদা দেবেন। তঁাদের বিক্রি বাড়বে। তঁাদের পারিবারিক অবস্থারও পরিবর্তন হবে। সম্প্রতি বনগঁা শহরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজন হয়ে গেল হস্তশিল্প মেলা। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হস্তশিল্পীরা সেখানে তঁাদের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে এসেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের পটচিত্রী জরিনা চিত্রকর। তিনি বললেন, ‘‌আমরা বংশপরম্পরায় পটচিত্রের কাজ করে আসছি। এই কাজ করে আমরা যেমন সংসার সামলাই, তেমনই আনন্দও পাই। আমার ঠাকুমা গৌরী চিত্রকর এই পটচিত্রের কাজ করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন। বাবা কানন চিত্রকরও অনেক সম্মান পেয়েছেন। তঁাদের কাজ চোখে দেখে আমি, আমার কাকা, পিসিরা এই কাজে আগ্রহী হয়েছি। শুধু তাই নয়, এই কাজ আমরা করেও যাচ্ছি। আমার ইচ্ছে, আমাদের ছেলেমেয়েরাও পড়াশোনা শেষ করে এই ঐতিহ্যপূর্ণ শিল্প বঁাচিয়ে রাখুক।’‌
বনগঁার এই মেলায় হাজির ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার আর এক পটচিত্রী সোনিয়া চিত্রকর। এই শিল্পের হাত ধরে তিনি ইতিমধ্যেই জার্মানি ঘুরে এসেছেন। তঁার স্বামীও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তঁারা বললেন, ‘‌নতুন সরকারের সহযোগিতায় গোটা শীতকাল জুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার মেলায় হাজির হয়ে আমরা আমাদের শিল্পকলা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে সংসার চালাতে পারছি। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার আমাদের মতো হস্তশিল্পীদের জন্য নানা প্রকল্প চালু করেছে। তাতে আমাদের আরও উপকার হচ্ছে।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top