গৌতম মণ্ডল, ঢোলাহাট: সপ্তাহখানেক আগে দুর্ঘটনায় জখম ৫৫ বছরের এক ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে তুলে এনে ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন এক যুবক। মানসিক ভারসম্যহীন ওই ব্যক্তি কিছুই ঠিকঠাক বলতে পারছিলেন না। কয়েক দিনের টানা চিকিৎসার পর বিড় বিড় করে নিজের মনে মনে কিছু বলতেন তিনি। ওয়ার্ডে রাউন্ড দেওয়ার সময় বিষয়টি নজরে আসে হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার সু্প্রিম সাহা। এরপর ওই রোগী নিজের ঠিকানা বলতে শুধু হেসামাবাদ কথাটা বলতে পেরেছিলেন। তাও খুব স্পষ্টভাবে নয়। তখন সুপ্রিমবাবু হ্যাম রেডিও-‌র সাহায্য নেন। হ্যাম রেডিওর সদস্যরাই খুঁজে বের করেন যে হেসেমাবাদ গ্রামটি রয়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ঢোলাহাটের রবীন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েতে। পরে স্থানীয় থানার মাধ্যমে খোঁজ মেলে ওই গ্রামের বাসিন্দা রোগীর পরিবারের। জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির নাম কেশব হালদার। শনিবার ভাই দেবাশিস হালদার হাসপাতালে এসে দাদা কেশবকে দেখতে পেয়ে কঁেদে ফেলেন। ভাইকে পেয়ে দাদার চোখেও তখন জল। ৪ ভাইয়ের মধ্যে বড় কেশব হালদার। ছোট থেকেই মানসিক ভারসম্যহীন। চিকিৎসা করালেও সুস্থ হননি তিনি। প্রায়ই বাড়ির কাউকে না বলে বেরিয়ে যান কেশব। কয়েকদিন আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরে আবার বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু এবার মাস দুয়েক আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেন নি কেশব। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। জানুয়ারি মাসে ঢোলাহাট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করে তাঁর পরিবার। এদিন ছোট ভাই দেবাশিস বলেন,‘‌ বিভিন্ন সময় আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যেত দাদা। এবার টানা ২০ দিন পরেও বাড়ি না ফেরায় সন্দেহ হয়। তখন থানায় জানিয়েছিলাম।’‌ কেশবের মাথায় ও পায়ে গুরুতর চোট রয়েছে। এদিন কেশবের সিটি স্ক্যান করানো হয়। এখনও কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হবে তাঁকে। সুপ্রিম সাহা বলেন,‘‌পরিচয়হীন কোনও রোগী এলে তাঁর ঠিকানা জোগাড় করাই আমাদের কাজ। সেভাবেই কেশববাবুর ঠিকানা জোগাড় করেছি। পরিবারের লোকেদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা তৃপ্ত।’‌‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top