‌যজ্ঞেশ্বর জানা, হলদিয়া: ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে অপহরণের অভিযোগে বুধবার রাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে হলদিয়ার গান্ধীনগর এলাকা। পড়ুয়াদের ক্ষোভ গিয়ে পড়ে স্থানীয় মানুষের ওপর। ছাত্ররা হস্টেল থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে ইট ও বোতল ছুঁড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। পড়ুয়া–জনতার খণ্ডযুদ্ধ থামাতে সক্রিয় হয় পুলিশ। 
তারপর পুলিশের দিকেও ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী–সহ বেশ কয়েকজন মানুষ আহত হন। পরে রাত ১টা নাগাদ হলদিয়া মহকুমার অন্যান্য থানা থেকেও বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে যাতে অশান্তি না হয় তার জন্য বুধবার রাত থেকেই হলদিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (হিট) কলেজের সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলেজ খোলা থাকলেও থমথমে ছিল গোটা এলাকা। এদিন দিনভর দোকানপাট বন্ধ রেখে ঘটনার প্রতিবাদে শামিল হন স্থানীয়রা। হলদিয়ার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক তন্ময় মুখার্জি বলেন, ‘‌কলেজ ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের কোনও কারণে ঝামেলা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা একজন ছাত্রকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। তারপর উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। মারপিট থামাতে গিয়ে আক্রান্ত হন ৩ পুলিশকর্মী।’‌ 
বুধবার রাত সাড়ে ৯ টা নাগাদ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কয়েকজন পড়ুয়া গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। মারামারি থামাতে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন পড়ুয়ারা। সেই সময় কয়েকজন ছাত্র কলেজের হস্টেলে গিয়ে জানিয়ে আসেন গ্রামবাসীরা এক ছাত্রকে তুলে নিয়ে গেছেন। এরপরই হস্টেল থেকে কয়েকশো ছাত্র বেরিয়ে এসে স্থানীয় দোকানগুলি ভাঙচুর করতে শুরু করেন। প্রতিরোধে নামেন স্থানীয় মানুষ। তখনই দু’‌পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। বুধবার রাতের ঘটনার ব্যাপারে মুখ খোলেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

পুলিশি প্রহরা হিট কলেজ চত্বরে। বৃহস্পতিবার। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top