‌নিরুপম সাহা, বনগাঁ: মানত করলেই নিঃসন্তান দম্পতি সন্তানের মুখ দেখবেন। চাকরি পাবেন চাকরিপ্রার্থী। দুরারোগ্য রোগও সেরে যাবে। বিশেষ কিছু শর্ত পূরণ করলেই মিলবে এমন প্রতিকার। এমনই দাবি করে চলছিল বুজরুকির রমরমা কারবার। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী মঞ্চের সদস্যদের আচমকা অভিযানে অবশেষে ফাঁস হল এই বুজরুকি। বনগাঁর একটি গ্রামের ঘটনা।
বনগাঁর চাঁদা উত্তরপাড়া বিনয়নগর কলোনি এলাকায় নিজের বাড়িতে ‘‌শ্রীশ্রী শ্যামা–তারা–আদ্যাশক্তি মায়ের মন্দির’‌ নামে একটি মন্দির নির্মাণ করে সেখানে পূজার্চনা করেন রবিন ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি। পুজোর পাশাপাশি প্রতি শনি ও মঙ্গলবার দুপুর বারোটার পর রবিন এবং তাঁর তিন মহিলা সহযোগীর ‘‌ভর’‌ হয়। এই সময় নাকি যে যেমন মানত করেন, তঁাদের সেই কামনা পূর্ণ হয়। যেমন, নিঃসন্তানের সন্তান, বেকারের চাকরি, রোগমুক্তি। তার জন্য ফুল, বেলপাতা, মাটি সহযোগে বিশেষ তাবিজ দেওয়া হয়। বিনিময়ে রোগ বিশেষে নগদ অর্থ নেওয়া হয়। পরিমাণ বেশ কয়েক হাজার টাকা। বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী মঞ্চের জেলা সভাপতি সজল ভদ্র জানালেন, দিন কয়েক আগেই তঁাদের সংগঠনের এক সদস্য ভক্ত সেজে ওই মন্দিরে যান। তিনি নিজেকে নিঃসন্তান হিসেবে দাবি করে সন্তান লাভের পথ জানতে চান। তাঁকে আশ্বস্ত করে বলা হয় ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিশেষ তাবিজ নিলে তাঁর সন্তান হবে। উল্লেখ্য, ওই সদস্য ইতিমধ্যেই দুই সন্তানের পিতা। যুক্তিবাদী মঞ্চের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তাদের জানিয়ে মঙ্গলবার তাদের কয়েকজন সদস্য ভক্ত সেজে হাজির হন ওই মন্দিরে। তঁারা সমস্ত ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেন। পরে নিজেদের পরিচয় দিতেই রবিন ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। তঁার তিন মহিলা সহযোগীও বিপদ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে যান।                 

জনপ্রিয়

Back To Top