দীপঙ্কর নন্দী: রাজ্য সরকার করোনা রোধে আরও ব্যবস্থা নিচ্ছে। জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এবার সন্দেহজনক লোককে খুঁেজ বার করা হবে। কোন অঞ্চলে এই রোগ ছড়াতে পারে তাও চিহ্নিত করা যাবে। তাদের পাওয়া গেলে পাঠানো হবে সরকারি কোয়ারেন্টিনে বা হোম কোয়ারেন্টিনে। আইডি হাসপাতাল থেকে শনিবার ৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী ভাল হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এছাড়া আরও ৫ জন বাড়ি ফেরার পথে। তবে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গতকালের তুলনায় ৩৮ থেকে বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। শনিবার বিশিষ্ট চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরিকে সঙ্গে নিয়ে নবান্নে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এই খবর জানান মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। যুদ্ধে জিততেই হবে এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়ে দেন মুখ্যসচিব। এদিন তিনি বলেন, ‘‌নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জন হলেন কালিম্পঙের একটি পরিবারের সদস্য। বাকি ৫ জন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার বাসিন্দা। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৫টি সরকারি ও ২টি বেসরকারি পরীক্ষা কেন্দ্রে নমুনা পরীক্ষা চলছে। রাজ্যে ৫১৬টি কোয়ারেন্টিন সেন্টার খোলা হয়েছে। আরও ৫০ হাজার মাস্ক দেওয়া হবে। হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ৩০৩৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কোয়ারেন্টিন থেকে ৩৩৮৬ জনকে ছাড়া হয়েছে। ‌মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে। সেভাবেই বিভিন্ন হাসপাতালে কাজ চলছে।’‌ বিশিষ্ট চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরি বলেন, ‘‌আইডি হাসপাতালে এখন ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন নেই। অনেকেই ভাবেন ভেন্টিলেশনে দেওয়া মানেই সব শেষ। ‌ভুল ধারণা। তা কিন্তু নয়। ভেন্টিলেশন ছাড়াই অনেকে ভাল হচ্ছেন।’‌ মুখ্যসচিব জানান, পরীক্ষা করে যদি করোনা পাওয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে তাকে কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। বাকিদের পরীক্ষা করার জন্য সরকারি কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে যাঁরা ভর্তি হচ্ছেন তাঁদেরও ভাল চিকিৎসা হচ্ছে। আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে। অন্য রোগীকেও আমাদের বাঁচাতে হবে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে কী হিসেব দেওয়া হচ্ছে আমি বলতে পারব না। তবে, এটুকু বলতে পারি সংখ্যা বাড়ানো বা কমানোর কোনও অধিকার কারও নেই। আমরা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসেবই অনুসরণ করব। এটা নিয়ে খেলার কোনও সুযোগ নেই। ২ জন চিকিৎসকের অন্য অসুখও ছিল। তাঁরা ভাল হওয়ার দিকে। কেউই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই।’‌ 
কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৬৩ জন। 

কেন্দ্রের হিসেব উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যসচিব বলেন, ‘‌করোনায় আক্রান্ত এই মুহূর্তে ৪৯ জন।’‌ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আপনারা আমাদের হিসেব মানবেন, নাকি কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া হিসেব মানবেন, সেটা আপনাদের ইচ্ছে।’‌ রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে প্রতিদিন বুলেটিন যাতে সাংবাদিকরা পান তা নিয়ে মুখ্যসচিব কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। 
কলকাতায় ৪ ও রাজ্যে ৫৫ হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা হবে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, ‘‌‌রাজ্যে ৫০ হাজারের বেশি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। সরকারি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ২৬২৬ জন।’‌ অভিজিৎ চৌধুরি বলেন, ‘‌যে সব করোনা রোগী চিকিৎসাধীন তারা কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই। চিকিৎসকরা বিষয়টি হালকাভাবে দেখছেন না। করোনায় যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা জটিলতা নিয়েই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। যারা অন্যান্য অসুখে ভুগছেন তাদেরকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top