স্বদেশ ভট্টাচার্য, বসিরহাট, ২০ জানুয়ারি- বসিরহাটে বিদ্যুৎ সঙ্ঘের মাঠে ৩ দিনের মহকুমা শ্রমিক মেলা শুরু হয়েছে। সোমবার মেলার উদ্বোধন করেন শ্রমিক পরিবারের মহিলারাই। মহকুমা সহকারী শ্রম আধিকারিক সুপ্রিয় ব্যানার্জি বলেন, ‘‌মেলার ৩ দিনে শ্রমিকদের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ৪৬ লক্ষ টাকা উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ১৯–‌২০ আর্থিক বছরে ২৮ হাজার নতুন নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।’‌ মহকুমা আইএনটিটিইউসি–‌র সভাপতি কৌশিক দত্ত বলেন, ‘‌আগে শ্রমিকদের এই সব সরকারি সুবিধা বলে কিছু ছিল না। যেটুকু ছিল তা থেকেও শ্রমিকরা বঞ্চিত হতেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মানুষের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন। অনেকে মেলায় এসে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জেনেবুঝে নিতে পারছেন।’‌
এদিন মেলায় এসে স্বপ্নপূরণের রসদ পেলেন দুই ছাত্রী। উচ্চশিক্ষার জন্য ২৫ হাজার টাকা পেলেন হীরামণি খাতুন। তিনি অসংগঠিত শ্রমিক পরিবারের সদস্য। তঁার বাবা সিরাজুল গাজি দিনমজুরের কাজ করেন। অন্যের জমিতে কাজ করে ৩ সন্তানকে লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। হাসনাবাদের চকপাটলি গ্রামের হীরামণি টাকি কলেজ থেকে বিএ পাশ করেছেন। তঁার বোন খুকুমণি, ভাই সাগর একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। হীরামণির স্বপ্ন এমএ পাশ করে শিক্ষকতা করে সংসার চালাবেন। জানান, বাবার সামান্য আয়। কী করে পড়াশোনা করব এ নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। বাবার সামাজিক সুরক্ষা কার্ড ছিল। তাই শ্রমিক মেলায় এসে রাজ্য সরকারের শ্রম দপ্তর থেকে ২৫ হাজার টাকা পেয়ে মনে হচ্ছে এবার স্বপ্ন পূরণ হবে। বাবা–‌মায়ের মুখে হাসি ফুটবে। হীরামণির পাশেই ছিলেন মৌসুমি দাস। বাড়ি হাসনাবাদের লাউতলা গ্রামে।  বাবা বামন দাস পেশায় বিড়ি শ্রমিক। বিড়ি বেঁধে কোনও রকমে সংসার চলে তঁাদের। নিজে টিউশনি পড়িয়ে লেখা পড়া চালান। বসিরহাট কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স নিয়ে বিএ পাশ করেছেন। ২৫ হাজার টাকা পেয়ে তিনিও খুশি।

শ্রমিক মেলায় এসে আর্থিক সাহায্য হাতে হীরামনি ও মৌসুমী। বসিরহাটে। ছবি:‌ প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top