গৌতম মণ্ডল, গঙ্গাসাগর, ১৩ জানুয়ারি- ‌মাহেন্দ্রক্ষণের প্রতীক্ষা শুরু হয়ে গিয়েছে। বুধবার ভোরে মকরসংক্রান্তির পুণ্যক্ষণ। সেই পুণ্যক্ষণে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ডুব দেবেন সাগরের জলে। রবিবার থেকে পুণ্যার্থীর স্রোত সাগরমুখী ছিল। এদিনের সন্ধের পর থেকে সেই ভিড় বেড়েই চলেছে। হাওড়া, বাবুঘাট থেকে বাসে প্রচুর পুণ্যার্থী সাগরের অভিমুখে যাত্রা করেছেন। ভোরের আলো ফোটার আগেই পুণ্যার্থীরা পৌঁছে যাবেন গঙ্গাসাগরে। 
এদিনও কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮, নামখানার বেণুবনেও পুণ্যার্থীর লম্বা লাইন। ভিড়ের চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত পুলিশ–প্রশাসনও। কারণ সারা বছরের এই ক্ষণের জন্য পুণ্যার্থীরা অপেক্ষা করেন। সেই অপেক্ষার অবসান হবে। এদিন সন্ধেয় মেলাতে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি জানান, এখনও পর্যন্ত ২১ লক্ষ পুণ্যার্থী মেলায় এসেছেন। যাত্রী পরিষেবার উন্নতি হয়েছে। ১১৬ জনকে বিভিন্ন কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।‌ এদিন মেলায় এসেছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, শোভনদেব চ্যাটার্জি, মণীশ গুপ্ত, সাংসদ চৌধুরিমোহন জাটুয়া। 
কয়েক দিনের তুলনায় শীতের দাপট কিছুটা কমেছে। তবে রাত বাড়তেই উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সরকারের তৈরি যাত্রী নিবাসগুলি উপচে পড়েছে। খোলা আকাশের নীচে তার্পোলিন কিনে অনেকেই জিরিয়ে নিয়েছেন। ভারতের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বেশ কয়েক দিনের ধকল সহ্য করে যাত্রীরা পৌঁছেছেন মেলায়। পুণ্যার্থীদের চেহারায় তা ধরা পড়ে। মাথায় বোঁচকা। দলের পান্ডার হাতে ম্যাড়মেড়ে পতাকা। আর সেই পতাকা অনুসরণ করে হেঁটে চলেছেন পুণ্যার্থীর দল। নেপাল থেকে প্রথম এসেছেন রাজনন্দিনী মিশ্র। তিনি সাগরের ব্যবস্থা দেখে আপ্লুত। বলেন, ‘‌এত ভাল ব্যবস্থা ভাবতে পারিনি। প্রথমবার এলাম। পুণ্যস্নান করেই ফিরব। সুযোগ পেলে আবার আসব।’‌ ক্যানিংয়ের পাশে হেঁটে চলেছে কোচবিহার। অন্যদিকে রঙিন আলোকে সেজে ওঠা গঙ্গাসাগর এখন রীতিমতো পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। মেলার মাঠে এ রাজ্যের কল্যাণী, দুর্গাপুরের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে দেখা। তাঁদের কথাতে পুণ্যের থেকে বেড়ানোর জায়গা হিসেবে বিশেষভাবে উঠে এল। দুর্গাপুর থেকে এসেছেন গোস্বামী পরিবার। পরিবারের প্রধান তপন গোস্বামী পেশায় স্কুলশিক্ষক। তিনি বলেন, ‘‌দেখুন ধর্মীয় কারণে শুধু আসিনি। এখানকার ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখেছি। তারপরে পরিবার নিয়ে চলে এলাম। মেলায় আসার কারণ প্রচুর মানুষের সঙ্গে দেখা হবে।’‌ 
সাগরমেলায় বিচিত্র মানুষের সহাবস্থান। ভোজপুরি কোরাসের পাশে দিব্যি শোনা যায় মারাঠি রামায়ণের সুর। দূর থেকে ভেসে আসে ‘‌গঙ্গা মাইকি জয়’‌ ধ্বনি। রাতের প্রহর কাটিয়ে ভোরের অপেক্ষায় গোটা সাগরতট।

সাগরমেলায় সাংবাদিক সম্মেলনে বাঁদিক থেকে চৌধুরিমোহন জাটুয়া, মণীশ গুপ্ত, অরূপ বিশ্বাস, সুব্রত মুখার্জি, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, শামিমা শেখ, ড. পি উলগানাথন। ছবি: অভিজিৎ মণ্ডল

জনপ্রিয়

Back To Top