সম্বৃতা মুখার্জি- রুটিন তল্লাশির সময়ই নজরে পড়ে, কেউ একজন পড়ে আছে সমুদ্রের ধারে। চমকে যায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিলী। কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন মৃত নন, পড়ে–‌থাকা বৃদ্ধ সংজ্ঞাহীন। বলা যায়, বরাতজোরেই প্রাণে বঁাচলেন বৃদ্ধ। বাড়ি ফিরলেন হ্যাম–‌সদস্যদের সাহায্যে। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের হ্যাম–‌সদস্যরা সজাগ থাকেন এই মেলার সময়। রবিবার ওই বৃদ্ধকে পাওয়ার পরেই যোগাযোগ করা হয় হ্যাম অমরেন্দ্র রায়ের সঙ্গে। তিনি অয়্যারলেসে খবর দেন অন্যদের। অ্যাম্বুল্যান্সে বৃদ্ধকে আনা হয় সাগরের অস্থায়ী হাসপাতালে। বেহুঁশ ছিলেন ওই বৃদ্ধ। তঁার পকেট থেকে পাওয়া যায় কচুবেড়িয়া থেকে সাগরে আসার বাসের টিকিট, একটি ফোন নম্বর এবং ১৩০ টাকা। ফোন নম্বরটিতে যোগাযোগ করা যায়নি।
সোমবার সকালে ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস পৌঁছে যান। দেখেন, খাট থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করছেন তিনি। বুঝিয়েসুঝিয়ে কোনও ভাবে শান্ত করা হয় তঁাকে। বৃদ্ধের কথা রেকর্ড করে হ্যাম নেটওয়ার্কে ছাড়েন অম্বরীশবাবু। কাজ হয়। একজন হ্যাম সেই রেকর্ডিং শুনে কথা বলতে চান বৃদ্ধের সঙ্গে। জানতে পারেন, উত্তরপ্রদেশের ফতেপুরে বাড়ি ওই বৃদ্ধের। নাম রামগোপাল। যোগাযোগ করা হয় উত্তরপ্রদেশের হ্যাম দেবানন্দ ঝা–‌র সঙ্গে। দেবানন্দ ওই বৃদ্ধের ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তঁার ছেলে জানান, বাসে গঙ্গাসাগরে গিয়েছেন বাবা। পাড়া থেকেই ছেড়েছিল বাস। প্রশাসনের সাহায্যে সেই বাস খুঁজে বের করে হ্যাম। ততক্ষণে ওই বৃদ্ধকে না নিয়েই উত্তরপ্রদেশের দিকে রওনা হয়ে গেছে সেই বাস। বাসের চালককে আটক করে একটি অভিযোগ লেখা হয়। এদিন ওই বাসেই বাড়ি ফিরছেন রামগোপাল। উত্তরপ্রদেশে ফতেপুর থানায় গিয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে বাসটিকে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top