বিজয়প্রকাশ দাস ও উদয় বসু, পূর্ব বর্ধমান ও ভাটপাড়া: লোকসভা নির্বাচন ও তার ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে বাড়ছে রাজনৈতিক সঙ্ঘর্ষের ঘটনা। দিকে দিকে আক্রান্ত তৃণমূল কর্মী–সমর্থকেরা। অভিযোগ বিজেপি–র বিরুদ্ধেই। সোমবার রাতেই দুই জেলায় বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হতে হয়েছে ৩ তৃণমূল কর্মীকে। এমনই অভিযোগ।
কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক তৃণমূল কর্মীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম জয়দেব রায় (৫০)। তিনি রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করতেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হলেন আরও তিনজন তৃণমূল কর্মী। আহতদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গলসি থানার সাটিনন্দী গ্রামে এই খুনের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
দলীয় কর্মী খুনের খবর পাওয়া মাত্রই রাজ্যের ২ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও স্বপন দেবনাথ বর্ধমান মেডিক্যালের পুলিশ মর্গে গিয়ে নিহত তৃণমূল কর্মীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে শোকযাত্রা করে নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস আশ্বাস দেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ও তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হবে। অরূপ বিজেপি–র বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে বলেন, ‘‌বিজেপি কয়েকটি আসন বেশি পেয়ে বাংলায় সন্ত্রাস এবং খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা ভাবছে খুন করলেই তৃণমূলকে শেষ করা যাবে। বর্ধমান শহর জুড়ে কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল করা, কোথাও কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে মারধর করা, কোথাও দলীয় কার্যালয়কে গেরুয়া রং করে দিয়ে একটা অরাজকতা তৈরি করেছে বিজেপি। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে এবং চলবে।’‌‌
এদিকে, ফের অশান্ত হয়ে উঠল ভাটপাড়া। বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমার আঘাতে প্রাণ হারালেন তৃণমূল কর্মী মহম্মদ হালিম (‌৫৫)‌ ও মহম্মদ মুস্তাক (‌৬৫)‌। বোমার ঘায়ে আহত হয়েছেন হালিমের স্ত্রী–সহ দু’‌জন। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ভাটপাড়ার বারুইপাড়ায়। ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভাটপাড়ায় মহম্মদ হালিমের বাড়িতে আসেন খাদ্যমন্ত্রী জোতিপ্রিয় মল্লিক, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মলকান্তি ঘোষ, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় ও তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। তাঁরা মৃত হালিমের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, ভেতরে প্রচণ্ড গরম তাই সোমবার রাতে খাওয়াদাওয়ার পর হালিম তাঁর পরিবারকে নিয়ে ঘরের বাইরে এসেছিলেন একটু ঠান্ডা হাওয়ার জন্য। রাত তখন সাড়ে ১০টা। আচমকা সেখানে হানা দিয়ে বোমা ছুঁড়তে থাকে ২ দুষ্কৃতী। ঘটনাস্থলেই বোমার আঘাতে মহম্মদ হালিমের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। হালিমের স্ত্রী–সহ ৪ জন গুরুতর জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় মহম্মদ মুস্তাকের। অন্যরা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, মৃত হালিম তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। সেজন্যই বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এ কাজ করেছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।

জনপ্রিয়

Back To Top