নিরুপম সাহা, ‌গাইঘাটা: ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল গাইঘাটা থানা এলাকার এক যুবকের। পরিবারের অভিযোগ, তঁাকে খুন করা হয়েছে। মৃতদেহ আনতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। গাইঘাটার চঁাদপাড়া ধানকুনি গ্রামের বাসিন্দা উত্তম সানা (‌৩২)‌ মাস পঁাচেক আগে সেন্টারিংয়ের কাজ করতে গুজরাটের সুরাটে যান। এর আগে তিনি কেরলেও একই ধরনের কাজ করেছেন। 
মৃতের বাড়িতে মা, বাবা, স্ত্রী ছাড়াও তঁার ২ ছেলেমেয়ে আছে। ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাড়িতে ফোন করে জানান যে, তিনি বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু সুস্থভাবে শেষপর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন কিনা সন্দেহপ্রকাশ করেন। তিনি ফোন করে বাড়িতে বলেন, ‘‌আমি এমন কিছু একটা দেখেছি, যাতে আমাকে ওরা মেরে ফেলবে। যদি বেঁচে থাকি, বাড়ি এসে বিস্তারিত জানাব।’‌ ওইদিন সারারাত ধরেই তিনি ফোনে বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরদিন তিনি আবার ফোন করে বলেন, ‘‌শত্রুপক্ষের হাত থেকে বঁাচতে গোবিন্দপুর জিআরপি–তে আশ্রয় নিয়েছি। তোমরা এসে আমায় নিয়ে যাও।’‌ তারপরই তঁার বউদি এবং অন্যরা রওনা দেন। বিকেলে ওডিশা পৌঁছনোর পর উত্তম ফের ফোন করে বলেন, ‘‌কাউকে আমার কাছে আসতে হবে না। ওরা তোমাদেরও মেরে ফেলবে।’‌ এই খবর শুনে আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাড়ির লোকেরা। এটাই ছিল উত্তমের শেষ ফোন। গতকাল ওডিশার রাজগনপুর জিআরপি থেকে বাড়িতে ফোন করে বলা হয়, উত্তম মারা গেছে। বাড়ির লোকেরা যেন এসে মৃতদেহ নিয়ে যায়। 
মৃত্যুর আগে উত্তম বাড়ির লোককে আরও বলে যান, তঁার সমস্যার ব্যাপারে তঁার কর্মস্থলের বন্ধু কমলেশ রায় সব কিছু জানে। আরও জানা গেছে, সুরাট থেকে উত্তমের সঙ্গে গাইঘাটার সুটিয়া এলাকার যুবক বাবলু সরকারও ফিরছিলেন। তিনি সুস্থভাবে বাড়ি ফিরলেও উত্তম কেন ফিরল না, সে ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি বাবলু।

জনপ্রিয়

Back To Top