সুখেন্দু আচার্য, ফুলিয়া: বিজেপি মণ্ডল কমিটির নির্বাচনের প্রস্তুতি ঘিরে গোষ্ঠীকোন্দলে আক্রান্ত হলেন ফুলিয়ার মণ্ডল কমিটির সভাপতি বিমল সরকার। গুরুতর আহত অবস্থায় তঁাকে প্রথমে রানাঘাট আনুলিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পরিবারের লোকজন তঁাকে একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করেছেন। এই ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ফুলিয়া অঞ্চলে। শান্তিপুর থানার পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। 
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এখন মণ্ডল স্তরে নির্বাচন চলছে, সেই নির্বাচন ঘিরে সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও নদিয়া জেলার দক্ষিণের সভাপতি মানবেন্দ্র রায় গোষ্ঠীর লড়াই মুখোমুখি এসে পড়ে। সেই লড়াই তীব্রতা পায় শান্তিপুরের ফুলিয়া অঞ্চলে। এখানে বর্তমান মণ্ডল সভাপতি বিমল সরকার সাংসদের ঘনিষ্ঠ। অভিযোগ, তঁাকে সরাতে উঠেপড়ে লেগেছে রানাঘাট দক্ষিণ জেলার সভাপতি মানবেন্দ্র রায়ের গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। সেই মতো জেলায় আসা নির্বাচনের অবজার্ভার বিজয় ব্যানার্জি দুই গোষ্ঠীর লোকজনকে নিয়ে বসেন। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসেনি। তা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় মানবেন্দ্র রায় গোষ্ঠীর রাজু নামে এক কর্মী দলের এক সমর্থককে মারে। এর পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সেই সময় ফুলিয়ার পার্টি অফিসের সামনে ছিলেন মণ্ডল কমিটির সভাপতি। হাতের কাছে পেয়ে রাজুকে মারার প্রতিশোধ নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে মণ্ডল সভাপতি বিমল সরকারের ওপর। লোহার রড থেকে কাঠের চেলা কাঠ যা পেয়েছে তাই দিয়ে মারধর করে। বিমলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তঁাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
যদিও সাংবাদিকদের বিমল সরকার জানান, তিনি চা আনতে পাঠিয়ে ছিলেন সম্রাট রায় বলে একটি ছেলেকে। তাঁকে প্রথমে মারধর করে সভাপতির সর্মথক সুফল সরকার। নির্মল সরকার–সহ বেশ কয়েকজন সেই খবর পেয়ে ছুটে যান। তার পর তাঁকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করে সুফলরা। তঁাকে মণ্ডল সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিতে অন্য গোষ্ঠীর পরিকল্পিত এই আক্রমণ। তঁাকে মেরে ফেলাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। নতুন বিজেপি–তে যারা এসেছেন। এসব কাজ তাদের।

জনপ্রিয়

Back To Top