Train Time: দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ ট্রেন সফরের সময় প্রায় ৩ ঘণ্টা কমতে চলেছে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ ট্রেনে করে সফর করার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমতে চলেছে।

দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে কাজ শুরু হতে চলেছে মুর্শিদাবাদে আজিমগঞ্জ-নসিপুর রেল ব্রিজের। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যেই শিয়ালদহ এবং হাওড়া থেকে বহরমপুর এবং মুর্শিদাবাদ স্টেশন ছুঁয়ে আজিমগঞ্জে পৌঁছে যাবে ট্রেন। তারপর সেখান থেকে পৌঁছে যাবে উত্তরবঙ্গে। 

লালু প্রসাদ যাদব রেল মন্ত্রী থাকার সময় ২০০৪ সালে আজিমগঞ্জ-নসিপুর রেল ব্রিজের শিলান্যাস করা হয়েছিল। সেই সময় এই ব্রিজ নির্মাণের জন্য ৪৬.৭০কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। ভাগীরথী নদীর উপর এই ব্রীজ দিয়ে ২০১০ সাল থেকে ট্রেন চলাচলের কথা থাকলেও প্রায় একযুগ পার হয়ে গেলেও এখনও জমি জটের কারণে এই ব্রিজ চালু করতে পারেনি রেল দপ্তর। 

যদিও ইতিমধ্যেই রেল দপ্তর ভাগীরথী নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলেছে। নদীর পূর্বদিকে ব্রিজের অ্যাপ্রোচ অংশ এবং লাইন পাতার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। কিন্তু পশ্চিম পাড়ে লালকুঠি-মাহিনগর গ্রামে প্রায় ৪৬২ মিটার জমির মালিকানা এখনও রেল দপ্তরে না পাওয়ার কারণে সেখানে লাইন পাতার কাজ এখনও শুরু করা যায়নি। তার ফলে প্রায় একযুগ পিছিয়ে পড়েছে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ সফরের সময় কমানোর রেল দপ্তরের প্রচেষ্টা। 

মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, 'রেল ব্রিজটি চালুর দাবি নিয়ে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে আমি পূর্ব রেলের ডিআরএম এবং জেনারেল ম্যানেজারের সাথে দেখা করেছিলাম। সেই সময় আমাকে জানানো হয়েছিল ব্রিজের ফাইলটি তাঁরা বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপরই আমি ডিসেম্বর মাসে রেলমন্ত্রী অশ্বনী বৈষ্ণবজির সাথে দেখা করি এবং তিনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন এই ব্রিজটি যাতে দ্রুত চালু করা যায় তা নিয়ে তিনি দপ্তরের আধিকারিকদের সাথে কথা বলবেন।' 

সূত্রের খবর রেল দপ্তরের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরই তৎপর হয়ে উঠেছে পূর্ব রেল। গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, 'শুক্রবার আমার সাথে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার অরুণ অরোরার বৈঠক হয়েছে। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন অনিচ্ছুক চাষীরা এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলে তাতে বাধা দেবেন না এই মর্মে তাঁদের কাছ থেকে লিখিত নথি জোগাড় করার জন্য।' 

বিজেপি বিধায়ক বলেন, 'ইতিমধ্যেই ২৪ জন চাষী লিখিতভাবে জানিয়েছেন রেলের কাজ শুরু হলে তাঁদের কোনও অসুবিধা নেই। রেলকে জমি দেওয়ার জন্য তাঁদের যদি চাকরির সুযোগ থাকে তাহলে ভবিষ্যতে তার জন্য আইনি লড়াই করবেন।' 

তিনি জানান, 'রেল দপ্তর সূত্রে আমাকে জানানো হয়েছে এই ব্রিজের কাজ শেষ হয়ে গেলে দক্ষিণবঙ্গের শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন থেকে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন বর্ধমান দিয়ে না ঘুরে, মুর্শিদাবাদ স্টেশন হয়ে আজিমগঞ্জ পৌঁছে যাবে। তার ফলে প্রায় ১১৩ কিলোমিটার যাত্রাপথ কমে যাবে এবং যাত্রীরা প্রায় তিন ঘণ্টা কম সময়ে উত্তরবঙ্গে পৌঁছাতে পারবেন।' 

গৌরীশংকর ঘোষ বলেন, 'রেল দপ্তর সূত্রে আমাকে আরও জানানো হয়েছে নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তারা অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কাজে হাত দেবেন এবং মার্চ এপ্রিল মাসের মধ্যেই এই পথে রেল চলাচল শুরু করবে।' 

আকর্ষণীয় খবর