‌নীলরতন কুণ্ডু: ছোট থেকেই পাড়ায় ভীষণ ভাল ছেলে বলে পরিচিত তাপস পাল। অভিনয়–‌জগতে চলে গেলেও যখনই চন্দননগরে আসতেন, পাড়ার বন্ধুবান্ধবদের খেঁাজখবর নিতেন। প্রতিবেশীদের খেঁাজখবর নিতেন। অত্যন্ত ভাল ব্যবহার ছিল। ওঁর মতো মানুষ হয় না। প্রয়াত চলচ্চিত্র অভিনেতা তাপস পালের মৃত্যুর খবর শোনার পর মঙ্গলবার সকালে চন্দননগরে এ–‌রকমই প্রতিক্রিয়া ছিল অভিনেতার বাল্যবন্ধু শান্তনু পাল, প্রদীপ ঘোষ, গোবিন্দ ঘোষ ও তপন গোস্বামীদের। লোকের মুখে–‌মুখে শোনা যাচ্ছিল:‌ ‘‌সাহেব’‌, ‘‌দাদার কীর্তি’‌, ‘‌গুরুদক্ষিণা’‌, ‘‌বলিদান’‌ ইত্যাদি ছবির নায়ককে আর কোনও দিন আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাব না। চিরবিদায় নিয়েছেন তাঁদের প্রিয় অভিনেতা। সেখানে যেতেই দেখা গেল, দাদার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পাপিয়াদেবী। তিনি হাতজোড় করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘‌প্লিজ, আজকের দিনটা ছেড়ে দিন। ও আমার একমাত্র দাদা ছিল। আজকে কিছু বলার মতো ভাষা আমার নেই। ধারাপাড়া, কঁাটাপুকুর, বক্সিগলি ইত্যাদি এলাকার তাপস পালের বন্ধুরা তাঁদের প্রিয় অভিনেতার স্মৃতিচারণ করার সময় কেউ বললেন আমরা এক সঙ্গে ফুটবল খেলতাম এবং পুকুরে সাঁতার কাটতাম। আজ সে–‌সব স্মৃতি— দুঃখ করছিলেন বন্ধুরা। বলছিলেন, তাপস ছিল একেবারে মাটির মানুষ। বাড়ির কাঁচামিঠে আম খেতে খুব ভালবাসত। কেউ বললেন, তাপস ছিল ‘‌দাদার কীর্তি’‌ সিনেমার মতোই সহজ–‌‌সরল। মজার মজার গল্প বলত। রাজনীতিতে এসে অন্যমনস্ক হয়ে কোথায় কী বলে ফেলেছে, আর সেটাই ওঁর জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছে। বন্ধু শান্তনু পাল বললেন, ওর কোনও ঔদ্ধত্য ছিল না। অভিনেতা হওয়ার পরেও সাইকেলে মহসিন কলেজে যাতায়াত করত। মাথায় থাকত ছাতা। নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিল। চন্দননগরে ‌স্ট্র‌্যান্ড–‌এ‌ ছিল বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা। এত ভাল ছেলে ছিল যে চিন্তা করা যায় না। এক সময় তাঁর বাড়িতে কাজের মাসি ছিলেন রেবা রায়। এদিন তিনি বললেন, ‘‌বড় ভাল মানুষ ছিলেন তাপস পাল। ওঁর মা ওঁকে খোকা বলে ডাকতেন। মাঝে মাঝে ফোলা লুচি, কুমড়ো–‌‌আলুর ঘ্যাঁট খেতে ভালবাসতেন। বিকেলে মোগলাই পরটা খেতে পছন্দ করতেন। একটা কুকুর ছিল। সেটা মরে যেতেই দাদার কী কান্না!‌ ওঁকে আমি দাদা বলেই ডাকতাম। আর কোনও দিন চোখের সামনে দেখতে পাব না অমন ভাল মানুষটাকে!‌’‌ এভাবেই আক্ষেপ করছিলেন বাড়ির এক সময়ের কাজের মাসী।‌‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top