নীলাঞ্জনা স্যানাল: পরীক্ষা হলে লুকিয়ে মোবাইল ব্যবহারকারীদের ধরতে এবার কঠোর রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে এ বছর প্রত্যেক সেন্টারে যিনি পরীক্ষার দায়িত্বে থাকছেন, সেই সেন্টার ইন–চার্জদেরও দেওয়া হচ্ছে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর (‌‌আরএফডি‌)‌‌। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল এবং বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম নিয়ে ঢোকার ব্যাপারে এমনিতেই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেউ যাতে লুকিয়ে মোবাইল ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্যই এই ব্যবস্থা। 
এ বছরের জয়েন্ট এন্ট্রাস পরীক্ষা ২৬ মে, রবিবার। গতবারের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। গত বছর ১ লক্ষ ২৫ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষার্থী কমায় এ বছর সেন্টারের সংখ্যাও কমেছে। গত বছর সব মিলিয়ে ৩৩৯টি সেন্টার হয়েছিল। এ বছর সেই সংখ্যা কমে ৩০০ হয়েছে বলে খবর। 
এ বছর বোর্ড পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ৪২৫। ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ৮৫। প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষকের কাছেই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর (‌‌আরএফডি‌)‌‌ থাকবে। এই পর্যবেক্ষকদের অধীনে সর্বোচ্চ ৫টি করে কেন্দ্র থাকে। প্রতিটি কেন্দ্রেই পরিদর্শন চালাতে হয়। ফলে, একটি কেন্দ্রে তাঁরা বেশিক্ষণ থাকতে পারেন না। তাঁরা থাকাকালীন কেউ মোবাইল বন্ধ রাখল, বেরিয়ে যাওয়ার পর চালু করলে এতদিন ধরার উপায় ছিল না। কিন্তু সেন্টার ইন–‌চার্জরা সারাক্ষণই কেন্দ্রে থাকছেন। ফলে, তাঁরা যখন খুশি যন্ত্রটি ব্যবহার করতে পারবেন। সেন্টার ‌ইন–‌চার্জের কাছে আরএফডি থাকায় কেউ সাহস পাবে না মোবাইল ব্যবহার করতে। পরীক্ষা হলে কেউ মোবাইল খোলা রাখলে, এই যন্ত্রের সাহায্যে ধরা যবে। লাল আলো জ্বলে উঠবে। আওয়াজ হবে। বোর্ডের চেয়ারম্যান মলয়েন্দু সেন বলেন, ‘‌আরও বেশি সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই সেন্টার ইন–‌চার্জদের আরএফডি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’‌ 
এ বছরও পরীক্ষার্থীরা কোনও ধরনের ঘড়ি পরে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবে না। পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিটি ঘরে ঘড়ি রাখার ব্যবস্থা করেছে বোর্ড। কলম আনাও নিষিদ্ধ। এবারও প্রশ্নপত্রের প্যাকেটের ‘‌সিল’‌ পরীক্ষার্থী নিজেই খুলবে। মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বোর্ডের সদস্য, ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষক এবং সেন্টার ইন–‌চার্জকে। এঁদের এ বছরও বোর্ডের পক্ষ ক্ষেত্রে বিশেষ পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top