আজকালের প্রতিবেদন- ‌‌‌‘‌সবার জন্য স্বাস্থ্য’‌, এই ভাবনাকে সামনে রেখেই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা–‌পরিষেবা পুরোপুরি বিনামূল্যে করে দিয়েছেন, যা ভারতের কোনও রাজ্যে নেই। এমন–‌কি রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য যোজনা নামে যে সীমিত চিকিৎসা–‌পরিষেবা প্রকল্পের কথা কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল, তার বাস্তব রূপ দিতেও তাদের দু’‌বছর লেগে গেছে। আর সে–‌ক্ষেত্রেও যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, তাতে প্রায় কিছুই হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে এ রাজ্যের মানুষদের পুরোপুরি চিকিৎসা–‌পরিষেবা বিনামূল্যে তো দেওয়া হয়েইছে, তার ওপর কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ও অনুমোদনে স্বাস্থ্য বাজেট পেশ করতে গিয়ে এ–‌সব কথাই বললেন। তিনি সভাকে জানান, ক্যান্সার রোগের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই যন্ত্রের সাহায্যে ক্যান্সার–‌‌রোগীকে চিকিৎসা করার সময় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাব অনেক কম হবে। চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য মা–মাটি–মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিশেষ জোর দিয়েছে। রাজ্যে আরও ৫টি মেডিক্যাল কলেজ করা হচ্ছে, যার জন্য অনেক বেশি সংখ্যায় চিকিৎসক তৈরি করা হবে। এবারের বাজেটে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে মশা ও পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধের ওপর। সাম্প্রতিক অতীতে মশা ও পতঙ্গবাহিত রোগের প্রভাব বেড়েছিল। ইংরেজ আমল থেকেই এই রোগের প্রকোপ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ছিল, কখনও কম বা কখনও বেশি। এর মধ্যেই পড়ে ডেঙ্গি, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি। এবার রাজ্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে প্রতিটি ব্লক স্তরে বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করেছে। যারা শুধু বর্ষার আগে নয়, সারা বছরই, বিশেষ করে শহর ও আধা–‌শহর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জল না জমার ওপর নজর রাখছে এবং পতঙ্গ ও মশার বংশবৃদ্ধি রোধে সব রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। বিরোধীরা আলোচনায় অংশ নিলেও রাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবি ভাষণ দিতে উঠতেই ওয়াকআউট করে। তঁাদের দাবি, বাজেট আলোচনার জবাব পূর্ণমন্ত্রীর কাছে চাই। কারণ বিধানসভার অধিবেশন সরকারই ডেকেছে। রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‌বিরোধীদের আচরণ আমার কাছে অপমানজনক। তঁারা হাসপাতালের সুযোগ–‌সুবিধা নিতে আমাকে ফোন করেন। অথচ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমি জবাব দিতে উঠলে তঁারা ওয়াকআউট করছেন!‌’‌‌ অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রীর আরও অনেক কাজ থাকে, তঁাকেই সভায় উপস্থিত থেকে জবাবি ভাষণ দিতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বিরোধীদের আচরণ অসৌজন্যমূলক।’‌ একমাত্র বিরোধী সদস্য আলি ইমরান রামজ সভায় ছিলেন। বলেন, ‘‌ওয়াকআউট একটা অধিকার। অধ্যক্ষ তার সমালোচনা করতে পারেন না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top